আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ কলকাতা ও শহরতলির অনেক বাড়িতেই সংবাদপত্র দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। হকাররা আতঙ্কে ভুগছেন। সংবাদপত্র থেকে করোনা সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই তো?‌ একদমই না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (‌হু‌)‌ জানিয়ে দিয়েছে সংবাদপত্রের পাতা উল্টিয়ে দেখলেও সংক্রমণের কোনও আশঙ্কা নেই। 
অনেকের আশঙ্কা ছিল যে, সংবাদপত্র থেকে হতে পারে করোনা সংক্রমণ। যদিও হু জানিয়েছে, আক্রান্ত কারও শরীর বা স্পর্শ থেকে কোনও পণ্যের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় নেই। বিশেষ করে প্যাকিং থেকে শুরু করে পাঠকদের বাড়ি পৌঁছনো পর্যন্ত যতগুলো ধাপ পেরোতে হয় একটি সংবাদপত্রকে, তাতে জীবাণু থেকে যাওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। প্রায় নেই বললেই চলে।
আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল জানিয়েছে, কোনও সংবাদপত্র বা প্যাকেট থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা কার্যত নেই। করোনার জীবাণু এরকম পরিস্থিতিতে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে।
কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার নামী সংবাদ প্রকাশনা সংস্থা নিউজ কর্প অস্ট্রেলিয়ার সকল ভেন্ডারকে গ্লাভস ও মাস্ক দিচ্ছে। তাদের সংবাদপত্র ছাপার পদ্ধতির সিংহভাগই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে হয়। প্রেসে ছাপতে যাওয়ার আগে বিশেষভাবে স্যানিটাইজ করা হচ্ছে কাগজ। 
অস্ট্রেলিয়ার চিফ মেডিক্যাল অফিস ব্রেন্ডন মার্ফিও জানিয়েছেন যে, সংবাদপত্র থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা কার্যত নেই। সংবাদপত্রের পাতা ওল্টানোর পর ভাল করে হাত ধুয়ে নিলে করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। হু’‌ও এটাও জানিয়েছে। তাই অযথা সংক্রমণের আশঙ্কা না করাই ভাল। ‌
সমস্যা হয়েছে আমজনতার। সকালে ঘুম থেকে উঠে খবরের কাগজে চোখ বোলাতে পারছেন না। করোনার সাম্প্রতিক খবর জানতে পারছেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আশ্বাসের পর হয়ত টনক নড়বে হকারদের। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মাঝে যাতে সংবাদপত্র তাদের নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংবাদপত্র ও বৈদ্যুতিন মাধ্যমের কাজের বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে বলেছে সরকার।

সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের চিঠি লিখে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। জরুরি তথ্য প্রদানের নেটওয়ার্ক অর্থাত্‍‌ টিভি চ্যানেল, সংবাদসংস্থার মতো মাধ্যমগুলির কাজ যাতে ব্যাহত না-হয়, তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রক। যথাসময়ে সঠিক তথ্য পেশে যাতে অসুবিধে না-হয় সেটা দেখতে বলা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন চললেও পেশাগত কর্তব্যের খাতিরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা। যথাযথ সতর্কতা নিয়ে সঠিক তথ্য সবার ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা। এই কাজে যাতে কোনও ব্যাঘাত না-ঘটে সেটাই নিশ্চিত করতে বলেছে কেন্দ্র।

 

 


‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top