আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ লন্ডন ব্রিজে ছুরিহামলায় আহত পাঁচজনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আততায়ী উসমান খানও পুলিসের গুলিতে নিকেশ হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে একথা জানিয়েছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। এই মামলার তদন্ত করছেন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাউন্টার টেররিজম পুলিসিং–এর অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার তথা ভারতীয় বংশোদ্ভূত নীল বসু। শনিবার লন্ডনে নিউ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের দপ্তরে বিবৃতি দিয়ে তিনি জানালেন, জখম বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
পুলিস সূত্রে খবর, জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক উসমান ইংল্যান্ডে চরমপন্থার পক্ষে প্রচার চালাত এবং জঙ্গি নিয়োগের কাজ করত। পাকিস্তানি জঙ্গি শিবিরগুলির জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজেও যুক্ত ছিল সে। ইংল্যান্ডে স্কুলে ভর্তি হলেও পাস না করেই কিশোর বয়সে পাকিস্তান চলে যায় অসুস্থ মায়ের কাছে। তারপর ফেল ইংল্যান্ড ফিরে আল–কায়দার ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৯০ সালে লন্ডন স্টক এক্সেচেঞ্জে বোমা বিস্ফোরণ সহ একাধিকবার সন্ত্রাসবাদী কাজে জড়িত থাকার অপরাধে জেল খেটেছিল সে। ২০১০ সালে লন্ডন উড়িয়ে দেওয়ার ছক কষলেও ধরা পড়ে যায়। ওই মামলায় উসমানকে ‘‌গুরুতর জেহাদি’‌ অ্যাখ্যা দিয়ে ২০১২ সালে প্রথমে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল লন্ডনের আদালত। রায়ে আদালত তখনই বলেছিল, উসমান সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর। ২০১৩–তেই কোর্ট অফ অ্যাপিল তার কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়িয়ে ১৬ বছর করেছিল।
গত বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পেয়ে উসমান স্ট্যাফোর্ডশায়ার অঞ্চলে বসবাস শুরু করেছিল। শুক্রবার হামলার আগে লন্ডন ব্রিজ লাগোয়া ঐতিহাসিক ফিশমঙ্গার হলে একটি অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছিল। হামলার পর যখন পুলিস এবং সাধারণ মানুষ উসমানকে পাকড়াও করেছিল তখন সে ভুয়ো বিস্ফোরকবোঝাই জ্যাকেট পরে নিজেকে উড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায় সবাইকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিস গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে এবং পরে মারা যায় সে।      ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top