আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দুনিয়ায় মোট জনসংখ্যার চার শতাংশের বাস আমেরিকায়। অথচ বিশ্বে মোট করোনা আক্রান্তের ২৫ শতাংশই আমেরিকার। নাগরিক, নয়তো অভিবাসী। কোভিড সংক্রমণে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা পাঁচ লক্ষ ছাড়িয়েছে। তার মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজারই মার্কিন নাগরিক। এই পরিসংখ্যান চিন্তার বটেই। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন সেই নিয়ে খুব একটা চিন্তা করছে বলে মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা। 
তাদের একটাই লক্ষ্য, জনজীবন স্বাভাবিক করে তোলা। কারণ তাহলেই নির্বিঘ্নে ভোট প্রচার সম্ভব। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করেওছেন তাই। তাঁর দেখানো পথে হেঁটেছে টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়াও। খুলে দেওয়া হয়েছিল পানশালা, রেস্তোরাঁ। ব্যবসা, বাণিজ্যও চলছিল দেদার। এবার তারা পিছু হঠল। টেক্সাসের পানশালাগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস-সহ ক্যালিফর্নিয়ার সাতটি শহরেও বার বন্ধ করা হয়েছে। ফ্লোরিডাতেও বন্ধ থাকছে পানশালা। বন্ধ রাখা হচ্ছে মায়ামি আর পাম সৈকত।
৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত। ছুটির এই উইকেন্ডে কার্যত বন্ধ থাকবে পানশালা থেকে সৈকত— সবই। যাতে মেমোরিয়াল ডে–র মতো পরিস্থিতি না হয়। মেমোরিয়াল ডে পালনের জন্য আমেরিকার সব পানশালা, রেস্তোরাঁ, সৈকতে জড়ো হয়েছিলেন লাখ লাখ মানুষ। তাতেই করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে বেড়েছিল। মিশিগানের একটি পানশালাতেই কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন ৮৫ জন।  
যেসব স্টেটে সংক্রমণের হার কম, সেগুলোও পানশালা, রেস্তোরাঁ খোলার বিষয়ে দ্বিতীয়বার ভাবনাচিন্তা করছে। সোমবার নিউ জার্সি জানিয়ে দিয়েছে, এখনই ইনডোর রেস্তোরাঁ, বার খুলছে না তারা। নিউ ইয়র্ক এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বুধবার। নিউ জার্সির গভর্নর ফিল মার্ফি জানিয়েছেন, বাইরে খোলা জায়গায় বসে খাওয়াদাওয়া করলে সংক্রমণ তুলনামূলক কমে। কিন্তু ইনডোরে সেই ঝুঁকি বেশি। তাই সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার আমেরিকায় এক দিনে নতুন করে সংক্রামিত হন ৪০ হাজার ১৭৩ জন। বেশির ভাগই কমবয়সি। বসবাস দেশের পশ্চিম এবং দক্ষিণে। তার পরেই কড়া হয়েছে কিছু স্টেট। 
আমেরিকার ৩১টি স্টেটে আগের সপ্তাহের তুলনায় সংক্রমণ বেড়েছে। ১৫টি স্টেটে সংক্রমণের হার একই রয়েছে। কানেটিকাট, ডেলাওয়ার, নিউ হ্যাম্পশায়ার, রোড আইল্যান্ডে একমাত্র সংক্রমণ কমেছে। এত কিছুর পরেও প্রেসিডেন্ট নিজেই মাস্ক পরতে চাননি। যদিও ভাইস প্রেসিডেন্ট বলছেন, ‘মাস্ক পরা ভাল। অভিজ্ঞতা বলছে, এতে সংক্রমণের গতি কমে।’ 

জনপ্রিয়

Back To Top