সংবাদ সংস্থা, ওয়াশিংটন: বাঙ্কার থেকে বেরিয়েই রণহুঙ্কার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনি জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ এখনই বন্ধ না হলে তিনি হাজার হাজার সশস্ত্র সেনাকে এবার রাস্তায় নামাবেন!‌ ফ্লয়েডের মৃত্যু যে আদতে হত্যা, তা একটি নিরপেক্ষ ময়না তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ, গ্রেপ্তার করার সময় দুর্ঘটনাবশত ফ্লয়েড মারা যাননি। তঁার পিঠ ও গলার ওপর চেপে বসে থাকার কারণে শ্বাসরোধ হয়েই তিনি মারা গেছেন। এই খবর বিক্ষোভের আগুনে আরও ইন্ধন জুগিয়েছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে নিউ ইয়র্ক শহরে সোমবার কার্ফু জারি হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বদ্ধমূল ধারণা, ভোটের বছরে তঁাকে বেকায়দায় ফেলতেই ডেমোক্র্যাট–শাসিত রাজ্যগুলোয় বিক্ষোভ দমনের কোনও চেষ্টা করা হচ্ছে না। ট্রাম্পের হুমকি সেই কারণেই, যে রাজ্য প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে তিনি সশস্ত্র সেনা নামাবেন। অর্থাৎ নিজের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করবেন সামরিক ক্ষমতা!‌
এদিকে আমেরিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন হলিউডের অভিনেতা জর্জ ক্লুনি। ‘‌দ্য ডেইলি বিস্ট’‌ নামে এক নিউজ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখায় ক্লুনি আপশোস করেছেন, যে আমেরিকায় সবথেকে ভয়ঙ্কর ‘‌প্যান্ডেমিক’‌ আসলে বর্ণবৈষম্য, ৪০০ বছরেও যার কোনও ভ্যাকসিন বেরোলো না!‌ ক্লুনির ভাষায়— এটাই আমাদের সবথেকে বড় অসুখ। এটাই আমাদের প্যান্ডেমিক। ৪০০ বছরেও যার কোনও প্রতিষেধক আমরা পেলাম না। বা হয়তো আমরা খেঁাজাই বন্ধ করে দিয়েছি। একটা করে ক্ষত তৈরি হয়, আর আমরা তার শুশ্রুষা করি। অবশ্য তাতেও আমরা বিশেষ সাফল্য পেয়েছি, তা বলা যায় না। 
চার পুলিশকর্মীর হাঁটুর চাপে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় জর্জ ফ্লয়েডের কাকুতি–‌মিনতি সারা বিশ্ব শুনেছে। দেখেছে, যে বার বার নিঃশ্বাস আটকে আসার কথা বললেও ওই পুলিশকর্মীদের একজনও সে কথা কানে তোলেনি, বরং চূড়ান্ত নির্বিকার থেকেছে। সরকারি ময়না তদন্তের রিপোর্টে ভরসা না করে ফ্লয়েডের পরিবার তাই পৃথক, নিরপেক্ষ ময়না তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিল একটি সংস্থাকে। তাদের রিপোর্টে প্রমাণ হয়েছে, যে জেনেশুনে জর্জ ফ্লয়েডকে মেরে ফেলা হয়েছে। দুর্ঘটনা নয়, ফ্লয়েডের মৃত্যু আদতে হত্যা। পুলিশের ভাষায় ‘‌হোমিসাইড’‌। ঘটনাচক্রে দ্বিতীয় একটি সরকারি রিপোর্টে গলায় চাপ পড়ার দরুন মাথায় রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং সেই কারণে হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুসের কাজ বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। তবে তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে জর্জ ফ্লয়েডের স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা এবং সহনশক্তি সম্বন্ধে সন্দেহ। কিন্তু ফ্লয়েড পরিবারের রিপোর্টে সরাসরি বলা হয়েছে, জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড়ে এবং গলায়, প্রায় নয় মিনিট ধরে প্রচণ্ড চাপ দেওয়া, যেভাবে তঁাকে উপুড় করে, হাত পিছমোড়া করে রেখে ফেলে রাখা হয়েছিল, তাতে তঁার ডায়াফ্রাম, অর্থাৎ হৃদপ্রকোষ্ঠ এবং পেটের মধ্যে যে ব্যবচ্ছেদ পর্দা, তাতে মারাত্মক চাপ পড়ার কারণেই শেষ পর্যন্ত ফ্লয়েড মারা যান। এবং সরকারি রিপোর্ট ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যাই–‌ই বলার চেষ্টা করুক, জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু যে বাইরের আঘাতজনিত, এবং স্বাভাবিক নয়, অর্থাৎ হোমিসাইড, সেটা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদিও কোনওভাবেই দুঃখিত নন। সোমবার হোয়াইট হাউসের নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, তিনি বরাবরই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পক্ষে। কিন্তু বিক্ষোভের নামে দাঙ্গা–‌হাঙ্গামা, লুঠতরাজ, আগুন লাগানোর ঘটনা সরকার বরদাস্ত করবে না। এই অরাজকতা চলতে পারে না। সামরিক এবং অসামরিক যাবতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা তিনি সক্রিয় করছেন। রাজ্যে রাজ্যে অশান্তি বন্ধ না হলে সশস্ত্র সৈন্যরা পথে নামবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এদিন হোয়াইট হাউসের অদূরে সেন্ট জন্‌স চার্চে যান, রবিবার রাতে যে ঐতিহাসিক গির্জায় আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। আগুনে গির্জার কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তিনি।
 

জনপ্রিয়

Back To Top