আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ প্রকাশ্যে এল পরিবারের কেচ্ছা। তাও আবার কার?‌ পৃথিবীর স্বঘোষিত সবথেকে শক্তিমান মানুষের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাইঝি মেরি ট্রাম্প একটি বইতে তাঁর হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন বলা যায়। বলাই বাহুল্য, এখন বইটি প্রকাশিত হওয়ায় বাধা পড়ছে প্রচুর।
উত্তরাধিকার সম্পত্তি নিয়ে ট্রাম্প পরিবার মেরির বিরুদ্ধে একটি অনামী আদালতে মামলা করেছিল। দাবি, মেরি ট্রাম্প পরিবারের টাকায় জীবনযাপন করেন। এবং নিজে কোনও রোজগার করেন না। কিন্তু সত্যটা হল, মেরি সেসময়ে লং আইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে স্কিজোফ্রেনিয়া পড়াশোনা করছিলেন এবং মানসিক আবসাদগ্রস্ত মানুষদের চিকিৎসাও করছিলেন। এরপর তাঁর পড়াশোনা বাড়তে থাকে। তিনি বিভিন্ন গবেষণাপত্র তৈরি করেন। তাঁর এক অধ্যাপক সূত্রে জানা যায়, তিনি একজন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। তাও মেরি এবং মেরির বাবাসহ গোটা পরিবারকে ক্রমাগত অপমান করতে থাকেন তাঁর কাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প। একসময়ে তাঁর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। তিনি একটি বই লেখেন। বিষয়বস্তু তাঁর কাকার আসল রূপ। আগামী মাসে সেই বইটি প্রকাশ পাওয়ার কথা হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প পরিবার সেই বইটি প্রকাশনা আটকে দেওয়ার সমূহ চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে। একটি গোপনীয়তার চুক্তিতে মেরিকে স্বাক্ষর করেতে হয়েছিল, যা তাঁদের পরিবারের উত্তরাধিকার বিষয়ক একটি সমঝোতার অংশ। সেই বিষয়টা এখন তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একথা জানা গিয়েছে, মেরির আইনজীবীর কাছ থেকে। ২০১৬ সালে যখন ট্রাম্প নির্বাচনে জেতেন, তখন মেরি একটি টুইট করেছিলেন, ‘‌আজ রাতের দুঃস্বপ্ন এটা।’ কিন্তু পরে তা উড়িয়ে দেন। ট্রাম্পের ছোট ভাই রবার্ট ট্রাম্প আদালতে আবেদন করেছেন যাতে বইটি প্রকাশ না পায়। কিন্তু তাঁর আর্জি খারিজ করে দেওয়া হয়। ছোট থেকেই মেরি দেখেছে রবার্ট ও ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁদের বড় ভাই ফ্রেড জুনিয়র অর্থাৎ মেরির বাবাকে কীভাবে অপমান করে এসেছেন। পারিবারিক ব্যবসার বিষয়ে উৎসাহ ছিল না ফ্রেড জুনিয়রের। তিনি পাইলট হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মদ্যপান করার অভ্যাসের কারণে সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। একারণেই তাঁর অকাল মৃত্যুও হয়। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁদের বাবা তাঁকে ব্যবসার দিকে আনার চেষ্টা করেন। তারপর মেরির বাবা মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। জানা গিয়েছে মেরির মাকে ফ্রেড সিনিয়র খুব একটা পছন্দও করতেন না। এদিকে আটলান্টিক সিটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্যাসিনোর পেছনে প্রচুর টাকা নষ্ট হয়। তাঁকে সর্বস্বান্ত করে দেয়। ১৯৯৯ সালে ফ্রেড সিনিয়র মারা যাওয়ার পর খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সম্পত্তির একটা বড় অংশ মেরির পরিবারে আসার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। যৎসামান্য সম্পত্তি দেওয়া হয় তাঁদের। পরবর্তীকালে মেরি অভিযোগ এনেছিলেন, তাঁদের ঠাকুর্দার এমনটা করার কথা নয়। তাঁর ভুলে যাওয়ার রোগ ছিল। নিশ্চয়ই তাঁর উইলে জালিয়াতি করা হয়েছে। মেরির ভাইয়ের ছেলে উইলিয়ামের সেরিব্রাল পালসির মতো রোগ ধরা পড়ে। কয়েক বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর চিকিৎসার জন্য টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু মেরি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর তিনি সেই টাকাটা দেওয়া বন্ধ করে দেন। ‘‌মেরি ও তাঁর ভাইকে একবার বার্ষিক পুরষ্কার হিসেবে ২০ হাজার ডলার টাকা দেওয়া হয়েছিল। যেখানে তাঁরা একটা কাজ পর্যন্ত করেনি।’‌ সাংবাদিকদের বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মেরির দাবি, তাঁদের টাকা চাই না। কিন্তু তাঁদের বাবাকে স্বীকৃতি দেওয়া হোক এ’‌টুকুই চান তাঁরা। এবং উইলিয়াম এই পরিবারেরই অংশ। তাঁর অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন রয়েছে।   

জনপ্রিয়

Back To Top