আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ফের আফগানিস্তানের দখল নেবে ইসলামী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী তালিবান?‌ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির যা পরিস্থিতি, তাতে এমনই আশঙ্কা ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে। ধীরে ধীরে ফের নাশকতামূলক কাজকর্ম শুরু করেছে তালিবান। গত শনিবার কাবুলে একটি হোটেলে হামলায় ১০০ জনের প্রাণ নিয়েছে তারা। হামলার দায়স্বীকার করে তালিবানের মুখপাত্র জাবিউল্লা মোজাহিদ বলেছেন, ‘‌আমাদের শেষ করা অতো সহজ নয়। সংগ্রামের পথ দুর্গম। তবু আমরা থামব না।’‌ এটা যে ফাঁকা আওয়াজ নয়, সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বিবিসি–র একটি পরিসংখ্যানে। তারা জানাচ্ছে, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ফের জাঁকিয়ে বসেছে তালিবান।

বাদ নেই প্রায় কোনও প্রান্তিক এলাকাই। গোটা দেশের চার শতাংশ এলাকায় সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে তালিবান। আর এক ইসলামী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএসের বাড়বাড়ন্তে সাময়িকভাবে আফগানিস্তানে তালিবানের দাপট কমে এসেছিল। ফের মাথাচাড়া দিয়েছে তারা। 
কীভাবে হল এই অসম্ভবকে সম্ভব করার কাজ?‌ কাবুল সংলগ্ন বাহারাকের বাসিন্দা দাউদ খান ফোনে আজকাল ডট ইন–কে জানালেন, ‘‌একেবারে তৃণমূলস্তর থেকে সংগঠন পুনরুজ্জীবিত করছে তালিবান। বলা ভাল, আগের থেকে কিছুটা নরমপন্থী হয়েছে তারা। আগে যতটা কট্টরপন্থী মনোভাব দেখাতো, এখন ততটা কঠোর নয় তারা।

অনেকটা রাজনৈতিক দলের মতো জনসভা করে কর্মীসংগ্রহ করছে তারা।’‌ দাউদ জানাচ্ছেন, ‘‌শুধুমাত্র সন্ত্রাসে প্রশিক্ষণ নয়, রীতিমতো পার্টিক্লাস করাচ্ছে তারা। ধর্মীয় শিক্ষার পাঠ দিচ্ছে।’‌ গোটা দেশ জুড়ে স্থানীয় সোর্স তৈরি করার কাজে মন দিয়েছে তারা। গোটা আফগানিস্তানে রয়েছে ৩৯৯টি জেলা। এর মধ্যে ৪৪ শতাংশে তালিবানের দাপটের ছবিটা রীতিমতো উদ্বেগজনক।
দাউদ জানাচ্ছেন, ‘দলে ‌লোক টানতে তালিবান আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরেছে। আগে ক্রিকেট খেলা বা যে কোনও পশ্চিমী বিষয়ে তীব্র বিরোধিতা করত তালিবান। এখন ক্রিকেটের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে‌ তারা।

এমনকী, নিজেরাও খেলা দেখতে আসে। পুরস্কৃতও করে। ধর্ম আলোচনার আসর আয়োজন করে। এভাবেই সাধারণ মানু্ষের আস্থা অর্জন করছে তারা। সত্যি কথাটা হল আইএস–এর অতি উগ্র কট্টরপন্থার জন্য অনেকেই তাদের পছন্দ করছে না। তালিবান তুলনামূলক নরমপন্থী হওয়ায় মৌলবাদীদের একাংশ তাদের দিকে ঝঁুকছে। মহিলাদের সঙ্গে অত্যাচার ও গার্হস্থ্য হিংসারও প্রতিবাদ করছে তালিবান। আমার মতো অনেকেরই ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে সন্ত্রাসবাদী দল থেকে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে চাইছে তালিবান।’‌ দাউদ মনে করছেন, গণতান্ত্রিক ক্ষমতা দখলের আগে এলাকা দখল করে নিতে চাইছে তালিবান। কারণ সেক্ষেত্রে তাদের শাসন কায়েম করতে অনেকটাই সুবিধা হবে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top