আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌‌ সুদক্ষ হাতে দেশে কোভিড–১৯–এর সংক্রমণ মোকাবিলা করেছে গণতান্ত্রিক দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ান। ২৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই ছোট্ট দ্বীপে শনিবার পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৪৪০জন এবং মারা গিয়েছেন সাতজন।  সেখানে একই জনসংখ্যার আরেক দ্বীপরাষ্ট্র তথা মহাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় মোট আক্রান্ত ৭০০০–এর বেশি এবং মারা গিয়েছেন ৯৮জন। এমনটাই তথ্য দিয়েছে আমেরিকার জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়।
করোনা মোকাবিলার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে জানুয়ারিতেই চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে যাত্রীদের আনাগোণায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল তাইওয়ান। তাইওয়ান বন্দরে পণ্যবাহী বা যাত্রীবাহী, কোনও ধরনের জাহাজ নোঙর করাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। মার্চের মধ্যেই মাস্ক উৎপাদন সারা দেশে বাড়িয়ে দিয়েছিল তাইওয়ান সরকার। কড়া লকডাউনও অন্যান্য দেশের মতো কখনও জারি হয়নি তাইওয়ানে। তাদের করোনা মোকাবিলার অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আশায় আগামী সপ্তাহে হতে চলা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু–র সদস্যদের বার্ষিক সম্মেলন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংগঠন বা ডব্লুএইচএ–তে যোগ দিতে চাইছে তাইওয়ান। দ্বীপরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সাই ইং–ওয়েনও স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার টুইটারে লিখেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য নেটওয়র্কের একটা অংশ তাঁর দেশও। তাই বিশ্বে কোভিড–১৯ মোকাবিলায় নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চান তাঁরা। তাইওয়ানের যোগ দেওয়াকে সমর্থন জানিয়েছে জাপান, আমেরিকা, নিউ জিল্যান্ডও। কিন্তু এতেই ক্ষুব্ধ চীন। কারণ হু–র সদস্য দেশ নয় তাইওয়ান। ২০০৯–২০১৬ পর্যন্ত ডব্লুএইচএ–তে পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিল দেশটি। তখন চীন ঘনিষ্ঠ কুওমিনতাং বা কেএমটি তাইওয়ানের শাসক ছিল। ২০১৬–তে তাইওয়ান স্বাধীন হয়ে শাসক হল ডেমোক্র‌্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি বা ডিপিপি। সেই সময় থেকেই বেজিং–এর সঙ্গে তাইপেই–এর চাপানউতোর শুরু এবং তারপর থেকে আর ডব্লুএইচএ–তে যোগ দেয়নি তাইওয়ান। হু অবশ্য সাফ বলে দিয়েছে ডব্লুএইচএ–তে কোন দেশ যোগ দেবে তার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বর্তাবে হু সদস্য দেশগুলির উপর। এদিকে, মহামারীর সুযোগ নিয়ে তাইওয়ান দখলের আকাঙ্খায় সীমান্তে সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে চীন।         

জনপ্রিয়

Back To Top