আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ফের রক্তাক্ত সিরিয়া। গত চারদিনে বোমার আঘাতে প্রাণ গেল ১২১টির শিশুর। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা অগুনতি। বিদ্রোহী দমনে সরকারপক্ষের তরফে বিদ্রোহী অধ্যুষিত অঞ্চলে বোমা ফেলা হয়েছিল। তার জেরেই এই বিপর্যয় চলছে। শনিবার থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই কেন বোমা ফেলা হল, সেটা নিয়েও চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ ও চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছানোর জন্য ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই ত্রাণ আটকে দিয়েছে রুশ সেনা। এই রুশ সেনা  সিরিয়া–প্রশাসনকে জঙ্গি বিতারণে সাহায্য করছে। আহত শিশুদের পরীক্ষার পরে ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভবত তাদের ওপরে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এই বোমাবর্ষণের মূল কেন্দ্র ছিল সিরিয়ার ঘুটা শহর। যা বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি। সরকার বারবারই দাবি করছিল, আমজনতার ওপরে বোমা ফেল হয়নি। কিন্তু শ’‌য়ে শ’য়ে আহত মানুষের ছবি সম্পূর্ণ অন্য কথাই বলছে। গৃহহীন ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ। যাঁরা বেঁচে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও রয়েছে প্রচণ্ড আতঙ্ক। আসদি নামে এক যুবতী যেমন বলেছেন, ‘‌একটি ভগ্নস্তূপের নীচে সন্তানদের নিয়ে দিন অতিবাহিত করছি। আমার মেয়ে এত আতঙ্কে রয়েছে যে ভয় পেয়ে নিজের চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলছে।’‌ খাবার–দাবারের জোগান প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছে। অবাধে চলছে লুঠতরাজ, ধর্ষণ এবং ডাকাতি। যে ক’‌টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ওই এলাকায় কাজ করছে, অবস্থার এমন অবনতি ঘটেছে যে তারাও কর্মীদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। মোয়াদ নামে এক মহিলা বলছেন, ‘‌হয় প্রাণে মরতে হবে, নয় তো দুষ্কৃতীরা ধর্ষণ করবে। বাস্তব এখন এটাই। আমি যখন রোজ সন্তানদের জন্য খাবার কিনতে যাচ্ছি, নকল গোঁফ এঁকে বাইরে বেরচ্ছি। না হলে আমাকেও কেউ ধর্ষণ করতে পারে। আহতদের চিকিৎসা যাতে না হয়, তাই ইচ্ছা করে অ্যাম্বুল্যান্স দেখলে তার ওপরে রকেট হামলা করা হচ্ছে।’‌
সব মিলিয়ে রক্তস্নান থামার কোনও লক্ষণই নেই।

জনপ্রিয়

Back To Top