সংবাদ সংস্থা‌, কলম্বো: নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার বদলা নিতেই শ্রীলঙ্কার গির্জায় এবং হোটেলে বিস্ফোরণ–হামলা। মঙ্গলবার যে হামলার কৃতিত্ব দাবি করল আইসিস জঙ্গিরা। তাদের নিজস্ব বার্তা সংস্থা আল আমাক মারফত আরবি ভাষায় লেখা বিবৃতিতে বলা হল, ইসলামিক স্টেটের আমেরিকা–বিরোধী ধর্মযুদ্ধ জোটই এই আক্রমণ চালিয়েছে। তবে চিরাচরিত ‘‌শহিদ’‌ শব্দের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে ‘‌যোদ্ধা’‌ এবং ‘‌আক্রমণকারী’‌ শব্দগুলি। সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মঘাতী বোমারু জঙ্গিদের তিনজনের ছবিও দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিচয় জানানো হয়েছে আবুল বরা, আবুল মুখতার ও আবু উবেইদা বলে। তিনজনই আইসিসের পরিচিত কালো পতাকার সামনে দঁাড়িয়ে ছবি তুলেছে। শ্রীলঙ্কা সরকার এর আগে সেদেশের মুসলিম সংগঠন ‘‌ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত’‌ ওই হামলার পেছনে আছে বলে জানিয়েছিল। তবে সেইসঙ্গে এও বলেছিল, কোনও আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাহায্য ছাড়া এনটিজে–র মতো একটি স্থানীয় গোষ্ঠীর পক্ষে এতবড় নাশকতা সম্ভব নয়। আর এদিনই সকালে শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুয়ান বিজয়বর্ধনে জানিয়েছিলেন, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার বদলা নিতেই শ্রীলঙ্কায় এই বিস্ফোরণ–হামলা হল। রবিবারের এই হামলায় মৃতের সংখ্যা মঙ্গলবার বেড়ে হয়েছে ৩২১। গুরুতর জখম আরও অন্তত ৫০০, তঁাদের অনেকের অবস্থা সঙ্কটজনক। এই নাশকতায় সন্ত্রস্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশও। শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে যেতে নিজের দেশের পর্যটকদের বারণ করেছে চীন, আমেরিকা। 
মার্চে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায় বন্দুকধারীরা। প্রাণ হারান ৫০ জন সাধারণ মানুষ, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন ধর্মত মুসলিম। তারপরই নাকি ইসলামি জঙ্গিরা শ্রীলঙ্কায় হামলার ছক কষতে শুরু করে বলে জানা যায়। রবিবারের বিস্ফোরণের আগেই দেশের গোয়েন্দারা প্রশাসনকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তখন থেকেই নজরে ছিল মৌলবাদী সংগঠন এনটিজে। এদিন সংসদের জরুরি অধিবেশনে এনটিজে–কে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিজয়বর্ধনে। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহ এদিন মন্তব্য করেন, ‘‌আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ শ্রীলঙ্কাতেও পৌঁছে গেল!‌’‌ বিরোধী দলনেতা মাহিন্দ্র রাজাপক্ষে অবশ্য সরকারের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‌আমি যখন দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলাম, তখন দেশ সন্ত্রাসমুক্ত ছিল। আমরা সরকারে থাকার সময় এ ধরনের কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি।’‌ জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তদন্তে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কা পুলিশ ও সেনাকে। ফলে এখন আদালতের নির্দেশ ছাড়াই কোনও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার বা জেরা করতে পারবে। তামিল গৃহযুদ্ধের সময়ও এই বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল সেনাকে। এখনও পর্যন্ত ৪০ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিস্ফোরণে নিহত ৩২১ জনের মধ্যে ৩৮ জন বিদেশি। এদিন আরও ২ ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর এসেছে। ফলে নিহত ভারতীয়র সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়েছে মৃতদের অন্ত্যেষ্টি এবং কবর দেওয়া। তার আগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৩ মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। রবিবার সকাল সাড়ে ৮টাতেই প্রথম বিস্ফোরণ হয়েছিল কলম্বোর গির্জায়।‌

জনপ্রিয়

Back To Top