অনিন্দ্য জানা, ঢাকা: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশকে তিস্তার জল দেবেন বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল তাঁর বাসস্থান ‘‌গণভবন’‌–‌এ ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, ‘‌মমতা কিন্তু পানি দিতে নিষেধ করেননি। উনি বলেছেন, দেবেন। আমরা সেই আশায় আছি।’‌
হাসিনা এ–‌ও জানিয়েছেন যে, তাঁরা তিস্তা চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকই। কিন্তু ভারতের যে প্রশাসনিক পরিকাঠামো, তাতে রাজ্যকে বাদ দিয়ে (‌অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ এবং মমতাকে বাদ দিয়ে)‌ কিছু করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ‘‌ভারতের যা সিস্টেম, তাতে প্রদেশকে বাদ দিয়ে কিছু করা সম্ভব নয়। তাও আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’‌
বস্তুত, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন নদীর নাব্যতা বাড়ানোর জন্য ‘‌ড্রেজিং’‌–‌এর পরামর্শও দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‌আমি তো ভারতকে ড্রেজিং করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। তা হলে পানির অভাব হবে না। নদীর জলধারণের ক্ষমতা বাড়বে। বন্যাও হবে না।’‌
হাসিনাকে তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গে জানানো হয়, উত্তরবঙ্গের আত্রেয়ী এবং দক্ষিণবঙ্গের চূর্ণী— দুটি নদীই বাংলাদেশে ঢুকে আবার পশ্চিমবঙ্গে গিয়েছে। এর মধ্যে আত্রেয়ী নদীতে খাল কেটে সব জল বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার চূর্ণী নদীতে বাংলাদেশের কারণে দূষণ ছড়াচ্ছে। হাসিনা অবশ্য তা মানতে চাননি। খানিকটা হালকা সুরেই তিনি বলেন, ‘‌এ সব হচ্ছে তিস্তার পানি না–‌দেওয়ার অজুহাত।’‌ তবে বিষয়টি যে তাঁকে চিন্তায় রেখেছে, তা গোপন করেননি হাসিনা। তিস্তা প্রসঙ্গ উঠতেইবলেছেন, ‘‌একটা দুঃখ আছে। দিদিমণি তিস্তার পানি দিলেন না। যখন পানি চাইলাম, তখন উনি বললেন, বিদ্যুৎ দেব। আমি বললাম, তথাস্তু। যা পাওয়া যায়, তাই দিন।’‌
এ বছরের শেষে বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়ার কথা। বিরোধীরা যে তিস্তা চুক্তিকে ভোটে ‘‌ইস্যু’‌ করবে, সেটা বিলক্ষণ জানেন হাসিনা। ফলে তাঁর কাছে বিষয়টি ‘‌স্পর্শকাতর’‌ বইকি। বস্তুত, আজ আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলাদেশের প্রথম সারির মন্ত্রী ওবাইদুর কাদেরও বলেছেন, ‘‌আমাদের নির্বাচন এসে যাচ্ছে। জনগণের কাছে যেতে হবে। মমতা ব্যানার্জি যদি তিস্তা চুক্তির বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখেন। ওঁকে আমরা শ্রদ্ধা করি। উনিও তো বাঙালি। বিষয়টির একটি সম্মানজনক, যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবসম্মত সমাধান করা হোক।’‌ আওয়ামি লিগেরই একটা অংশের অবশ্য বক্তব্য— এইভাবে তিস্তার জলের কথা বলে দলের নেতারা নিজেরাই প্রত্যাশা এবং চাপ বাড়িয়ে নিচ্ছেন। এখন থেকেই এতটা এগিয়ে না খেললেও হত।
তবে বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে জেলে যাওয়ায় বিরোধীরা খানিকটা ব্যাকফুটে। তাই খালেদা জেলে যাওয়ার পরেও বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারেনি। হাসিনা সেটা জানেন বলেই বলেছেন, ‘‌আমি তো বলব, আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। বিএনপি নেত্রীর ব্যাপারে আদালত রায় দিয়েছে। ফলে বিরোধীরা ভোটে আসবে কিনা, সেটা তাদের ব্যাপার। তবে তাদের অনেকে ভোট চায়। আমি মনে করি, তাদের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।’‌
বিরোধীরা খানিক বেকায়দায়, বিরোধী নেত্রী জেলে, ভোটে জয় নিয়ে আওয়ামি লিগ আশাবাদী। এই পরিস্থিতিতে তাঁর উত্তরাধিকারী কে হবেন?‌ পরিবার থেকে?‌ নাকি দল থেকে?‌
হাসিনা জানাচ্ছেন, সেটা দল আর জনতা ঠিক করবে। তাঁর কথায়, ‘‌সেটা তো আর আমি ঠিক করতে পারি না। সেটা দল আর জনতা ঠিক করবে। আমি এটা মনে করি না যে, ছেলে বা মেয়েকে এনে বসিয়ে দেব।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top