আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ উত্তর পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চল বিশিগ্রাম উপত্যকা। বরফে ঢাকা এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১০টির মত পরিবার বাস করে। ছোট্টগ্রামকে বিশেষ করে তুলেছে একটি ভাষা। যে ভাষা বলতে পারেন মাত্র ৩ বৃদ্ধ। সেই ভাষার নাম বদেশি। একটা সময় পুরো গ্রামই নাকি বলতে পারত বদেশি। কিন্তু কালে কালে পাশের গ্রাম থেকে বিয়ে হয়ে একাধিক তরুণী এসেছে এই গ্রামে। আশপাশের গ্রামের লোকেরা ত্রোওলি ভাষায় কথা বলে। সেকারণে গ্রামের বধূরা কেউ জানত না বদেশি। বউয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য বাধ্য হয়েই তাঁদের ভাষা শিখতে হয়। পরবর্তী প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাও মায়ের ভাষাই শিখতে শুরু করে। ত্রোওলির চাপে হারিয়ে যেতে শুরু করে বদেশি। একমাত্র এই গ্রামের তিন বৃদ্ধ রহিম গুল, আলি শহের এবং সইদ গুল।  এরাই শিবরাত্রির সলতের মতো বাঁচিয়ে রেখেছে বদেশিকে। 
রহিমের ছেলে নাতি নাতনি কেউ কিন্তু বলতে পারে না এই ভাষা। সকলেই ঠাকুমা, মায়ের ভাষা ত্রোওলিতেই কথা বলে। বদেশি হারিয়ে যাওয়ার আর একটি কারণ কর্মসংস্থান। এই ভাষায় যেহেতু গ্রামের বাইরে কেউ এই ভাষায় কথা বলেন না সেকারণে ত্রোওলি ভাষায় কথা বলাটা সহজ হয়েছিল তাঁদের। কাজের প্রয়োজনেই বেশিরভাগ সময় ত্রোওলি এবং পাস্তো ভাষায় কথা বলতে হয়।  
বদেশিতে কথা না বলতে বলতে অনেক শব্দই ভুলে যেতে বসেছেন এই তিন বৃদ্ধ। তাঁদের মৃত্যুর সঙ্গে বদেশিরও যে মৃত্যু ঘটবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এই নিয়ে অনুশোচনা থাকলেউ উপায় নেই পরবর্তী প্রজন্মের। পেটের টানেই তাঁদের বদেশি থেকে বিচ্ছেদ ঘটেছে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top