আজকালের প্রতিবেদন: স্প্যাইঅয়্যার পেগাসাসের জন্মদাতা ইজরায়েলি সংস্থা এনএসও–র জাল ছড়িয়ে বিশ্বের ৪৫টি দেশে। ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছে এনএসও। জি টিভি–র তদন্ত ধরা পড়েছে এই তথ্য ।
হোয়াটসঅ্যাপে আড়িপাতা বিতর্কের দুনিয়া জুড়ে শোরগোল। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন এমন প্রায় ১,৪০০ জনের ওপর নজরদারি চালিয়েছে এনএসও–র স্প্যাইঅয়্যার পেগাসাস। সাংবাদিক, সমাজকর্মী, অধ্যাপক, আইনজীবী, রাজনীতিক, কূটনীতিবিদ, সরকারি কর্মী আড়িপাতা–‌কাণ্ডের শিকার। তাঁদের মধ্যে ১২১ জন ভারতীয়। সংস্থাটি তাদের স্প্যাইঅয়্যারটি শুধু সরকারের কাছেই বিক্রি করে। বিরোধীদের প্রশ্ন, এটি ভারতে পৌঁছল কীভাবে, কে কিনল?‌ এই আবহে পেগাসাসের আঁতুড়ঘর এনএসও–র অফিসে পৌঁছে যায় জি মিডিয়া। জি–র অনুমোদিত চ্যানেল ডব্লিউআইওএনের সাংবাদিক সিদ্ধার্থ সিবল আড়িপাতার শিকার। এই চ্যানেলের সাংবাদিক ড্যানিয়েল ইজরায়েলে গিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে আড়িপাতা–‌ কাণ্ড নিয়ে তদন্ত করেন। 
৭,০০০ কোটির সংস্থা এনএসও। সদর দপ্তর ইজরায়েলের শহর তেল আভিভের হার্জলিয়ায়। বিশ্বের ৪৫টি দেশে ছড়িয়ে আছে এনএসও–র গ্রাহক। প্রতিষ্ঠাতার ঘনিষ্ঠতা ছিল ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর ৮২০০ ইউনিটের সঙ্গে। সংস্থার গ্রাহকদের অন্যতম সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। এই সংস্থার আয়ের অর্ধেক আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। ইয়োরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্গত ২১টি দেশের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে এনএসও–র। এই সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছে বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।
পেগাসাস কাজ সারে নিঃসাড়ে। মিসড কল দিয়ে ঢুকে পড়ে মোবাইলে। হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলিংয়ের মারফত হাতিয়ে নেয় যাবতীয় তথ্য। আড়িপাতার শুরু ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের মে মাসের ভেতর। সেই সময় একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এনএসও। অ্যাকাউন্টটি তৈরি করা হয় ইজরায়েল, সাইপ্রাস, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, সুইডেন এবং নেদারল্যান্ডসের রেজিস্টার্ড কয়েকটি নম্বর ব্যবহার করে। আর ২০১৯–এর এপ্রিল ও মে মাসে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট কিছু নম্বরে ভুয়ো কোড পাঠানো হয়। বিষয়টা জানাজানি হয় ২০১৯ সালের মে মাসে। এনএসও–র স্প্যাইঅয়্যার পেগাসাসের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতের দ্বারস্থ হয় হোয়াটসঅ্যাপ। হোয়াটসঅ্যাপের অভিযোগ তাদের ভাবমূর্তি ধুলোয় মিশিয়েছে এনএসও। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top