সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: ব্যাঙ্কঋণ বকেয়া রাখা–‌সহ নানারকম আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেলেই অভিযুক্তরা নিরাপদ!‌ সরকার ঠুঁটো। একের পর এক ঘটনায় দেশ জুড়ে ক্ষোভ, তিক্ত রসিকতা। এ অবস্থায় কিছু করার দায় চাপছে মোদি সরকারের ঘাড়ে। আনা হচ্ছে একটি বিল। যার লক্ষ্য পলাতক আর্থিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার বিলটি অনুমোদন করল। পিএনবি জালিয়াতিতে অভিযুক্ত হীরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির মতো যাদের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, বিচারের জন্য দেশে আনা যাচ্ছে না, তাদের মোকাবিলায় এই ‘‌পলাতক আর্থিক অপরাধী’‌ বিল। এতে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত না হলেও দেশ থেকে চম্পট দেওয়া আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। ৫ মার্চ শুরু হতে চলেছে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব। তখনই পেশ হতে পারে বিল। যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগে, যারা স্বেচ্ছায় ব্যাঙ্কের ঋণ নিয়ে খেলাপ করেছে, ১০০ কোটি টাকার ওপর ঋণ বকেয়া রেখেছে, তারা এই বিলের আওতায় পড়বে। বিলের বক্তব্য, বিচারে দোষী সাব্যস্ত না হলেও এদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। সেই সম্পত্তি বেচে দিয়ে পাওয়া অর্থে ঋণদাতাদের প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়া হবে। এহেন অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিচার করা হবে বেআইনি আর্থিক লেনদেন রোধ আইনে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানান, সুনির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে পরোয়ানা জারি হলে গ্রেপ্তারি এড়াতে কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে আদালত তাকে পলাতক ঘোষণা করতে পারে। শুধু অপরাধ থেকে অর্জিত সম্পদই নয়, পলাতক ব্যক্তির যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনও দেওয়ানি মামলা করতে পারবে না এর বিরুদ্ধে। জেটলি আরও জানান, বিচার এড়াতে দেশ ছেড়ে চম্পট দেওয়া লোকজনের নতুন ও পুরনো সব মামলাই নতুন বিলের আওতায় আসবে। অর্থাৎ বিলটি পাশ হলে বিজয় মালিয়া, নীরব মোদি সবার বিরুদ্ধেই প্রযোজ্য হবে এই আইন। মন্ত্রিসভায় আরও ঠিক হয়েছে, হিসাব পরীক্ষকদের কাজে নজর রাখতে তৈরি হবে একটি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। 
বলাই বাহুল্য, নীরব মোদির জালিয়াতির পর দেশছুটদের নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। সংবাদমাধ্যমের খবর, নীরব মোদি আমেরিকায় আছেন। নিউ ইয়র্কে যে হোটেলে আছেন নীরব মোদি, তার নামও বেরিয়েছে। কিন্তু আমেরিকা এই নিয়ে কুলুপ এঁটে আছে। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করেছিল সংবাদ সংস্থা পিটিআই। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, নীরব মোদি সে দেশে আছে বলে যে খবর বেরিয়েছে, তা তাঁদের চোখে পড়েছে। কিন্তু এই খবর ঠিক কি না নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না!‌ নীরবকে খুঁজে বের করার ব্যাপারে ভারত সরকারকে আমেরিকা কোনও আইনি সহায়তা দিচ্ছে কিনা, জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্রটির গা বাঁচানো উত্তর, সেটা বিচার মন্ত্রককে জিজ্ঞেস করুন। বিচার মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কিছু জানাতে অস্বীকার করে। 
নীরব ও তাঁর মামা মেহুল চোকসি ও অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতে তদন্ত চলছে একাধিক এজেন্সির। পিএনবি–‌র ব্র্যাডি হাউস শাখা থেকে জাল লেটার অব আন্ডারটেকিং বের করে তার জোরে অন্য ব্যাঙ্কের বৈদেশিক ৩ শাখা থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করেননি তাঁরা। আলাদা করে এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
এর মধ্যে নিউ ইয়র্কের আদালতে ফায়ারস্টার ডায়মন্ড–‌সহ নীরবের তিনটি কোম্পানির তরফে আবেদন করা হয়েছে, তাদের দেউলিয়া বলে ঘোষণা করা হোক। দেউলিয়া ঘোষিত হলে জোর করে ঋণ বা পাওনা আদায় করতে পারবে না কেউ। লক্ষণীয়, তাদের আবেদনের সঙ্গে যে সব কাগজপত্র পেশ করা হয়েছে, তাতে ঋণদাতা ব্যাঙ্ক হিসেবে শুধু এইচএসবিসি এবং ইজরায়েল ডিসকাউন্ট ব্যাঙ্কের নাম রয়েছে। পিএনবি বা অন্য ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলির নাম নেই। তবে দেউলিয়া ঘোষিত হলে পিএনবি–‌র পক্ষে পাওনা আদায় করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে নীরবের কোম্পানির শোরুমটি বন্ধ ছিল। কেন, তা জানা যায়নি। নীরব ও তাঁর মামা, গীতাঞ্জলি জেমসের মালিক মেহুল চোকসির পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। সিবিআই নীরবকে বলেছে, তিনি যে দেশে রয়েছেন, সেখানকার ভারতীয় দূতাবাসে যেন যোগাযোগ করেন দেশে ফেরার জন্য। বিদেশে ব্যবসা দেখাশোনা করতে হচ্ছে, এই ছুতো দেখিয়ে নীরব দেশে ফিরতে অস্বীকার করেছেন। নীরব, মেহুলদের ওপর নজর রাখতে লুকআউট সার্কুলার বা ব্লু কর্নার নোটিসও জারি হয়েছে।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top