সংবাদ সংস্থা, নিউ ইয়র্ক, ৩০ মে- আমেরিকায় করোনা সংক্রমণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল নিউ ইয়র্ক। সেই শহরও এবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। ৮ জুন থেকে, পর্যায়ক্রমে। কাজে ফিরতে শুরু করবেন প্রায় ৪০ লাখ কর্মী। জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো। করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর মার্চের মাঝামাঝি থেকেই লকডাউন জারি হয়েছিল নিউ ইয়র্কে। এখানে করোনায় আক্রান্ত হন ১,৯৯,০৩৮ জন। মারা যান প্রায় ২০,০০০। মে মাস থেকে রাজ্যের অন্যত্র পর্যায়ক্রমে লকডাউন তুলে নেওয়া হলেও নিউ ইয়র্ক শহর এতদিন স্বেচ্ছা অবরুদ্ধই ছিল। তার অন্যতম কারণ, স্বাভাবিক জীবনের প্রথম পর্যায়ে ফেরার যে সাতটি আবশ্যিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল প্রশাসন, এতদিন তা আয়ত্তে আনতে পারেনি জনবহুল এই শহর। অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় গভর্নর কুয়োমো ঘোষণা করেছেন, সাতটি শর্তই মেনে চলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে ৮ তারিখ থেকে লকডাউন তোলার প্রথম পর্যায় শুরু হবে। কাজে ফিরবেন প্রায় ৪০ লাখ কর্মী। চালু হবে নির্মাণকাজ, কল–কারখানায় উৎপাদন, পাইকারি বাজারের সরবরাহ, দূরত্ব বজায় রেখে খুচরো বিক্রি। হয় অর্ডার করা পণ্য বাড়ির সামনে নামিয়ে যাওয়া হবে, অথবা দোকানের বাইরে রাখা থাকবে ক্রেতার তুলে নেওয়ার জন্য। কৃষিকাজ, বনজ সম্পদ আহরণ এবং মাছ ধরার কাজও শুরু হবে।
লকডাউন উঠিয়ে নেওয়ার জন্য যে সাতটি আবশ্যিক প্রাথমিক শর্ত প্রশাসন নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল, সেগুলি হল— সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়া, তিন দিনের গড়ে মৃত্যুর হার কম হওয়া, হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীর মৃত্যু পঁাচটির বেশি না হওয়া, প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে দুজনের বেশি হাসপাতালে ভর্তি না হওয়া, যে কোনও হাসপাতালের অন্তত ৩০% বেড খালি থাকা, এক একটি অঞ্চলের অন্তত ৩০% আইসিইউ বেড খালি থাকা এবং করোনা পরীক্ষা এবং কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের সক্ষমতা পুরোমাত্রায় থাকা। এত দিন পর অবশেষে নিউ ইয়র্ক সেই পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। ‘‌শহরের বাসিন্দারাও এখন অনেক আশ্বস্ত, স্বাভাবিকতায় ফিরতে অনেক বেশি সাহসী। প্রতিদিন তঁারা করোনাকে একটু করে পিছু হটতে বাধ্য করছেন। রোগ সংক্রমণ যাতে আবার ফিরে না আসে, সেদিকে সবাই লক্ষ রাখছেন।’‌ শুক্রবার বলেছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল দে ব্লাসিও।‌

জনপ্রিয়

Back To Top