আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আমেরিকা না পারলেও পারল নিউজিল্যান্ড। ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে বন্দুকবাজের হামলার পর টনক নড়েছে নিউজিল্যান্ড সরকারের। শনিবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন জানিয়ে দিয়েছেন, খুব শীঘ্রই দেশের বন্দুক আইন বদলাতে চলেছে। এদিনই পুলিস জানতে পেরেছে, ২৮ বছরের অস্ট্রেলিয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট ২০১৭ সালে ‘‌ক্যাটাগরি এ’‌ বন্দুকের লাইসেন্স পেয়েছিল। তারপর সে দুটি আধা–স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, দুটি শটগান এবং একটি লিভার–অ্যাকশন আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিল, যেগুলি সব কটিই বৈধ। ওই বন্দুকগুলি দিয়েই শুক্রবার গণহত্যা লীলা চালিয়েছিল ব্রেন্টন।
জেসিন্ডা শনিবার ঘোষণা করেছেন, ‘‌আসল সত্যটা হল, ওই ব্যক্তি বন্দুকের লাইসেন্স পাওয়ার পর ওই ধরনের অস্ত্র কিনেছিল। তাহলে নিশ্চই মানুষ বদল চাইবেন এবং আমি সেটা করতে বাধ্য। বন্দুকের লাইসেন্স পাওয়া এবং বন্দুক থাকার নিয়মগুলি নিয়ে এখন কাজ শুরু হয়েছ। তবে একটা কথা আমি আপনাদের পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছি— আমাদের বন্দুক আইন বদল হচ্ছে।’‌ একইসঙ্গে এদিন প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, ধৃত ব্রেন্টন এবং তার দুই সহযোগী আগে অনলাইনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক উক্তি পোস্ট করলেও তারা পুলিসের নজরদারিতে ছিল না। তবে এখন থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এধরনের পোস্টের উপর নজরদারি চালাতে পুলিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছন তিনি। 
প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে আরমোয়ানায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করার পর তৎকালীন নিউজিল্যান্ড সরকার বন্দুক আইনে বদল করে আধা–স্বয়ংক্রিয় রাইফেল কেনার উপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। কিন্তু তাদের বন্দুক আইনে কখনওই অস্ট্রেলিয়ার বন্দুক আইনের মতো কড়াকড়ি ছিল না। ১৬ বছর বয়স হয়ে গেলেই যে কেউ নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং পুলিসের জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে পাস করলে বন্দুক কেনার উপযোগী হতে পারে।  

জনপ্রিয়

Back To Top