আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌প্রধানমন্ত্রী’। একটি দেশের সবথেকে ক্ষমতাবান‌ মানুষ। তাতেও বিনামূল্যে জামাকাপড় কাচতে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারলেন না বেঞ্জামিন নেতানইয়াহু। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী তিনি।
বাইরের দেশের রাজনৈতিক নেতারা প্রেসিডেন্টের অতিথি হিসেবে মার্কিন মুলুকে গেলে তাঁদের জামাকাপড় কেচে দেওয়া হয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই বেঞ্জামিন মার্কিন প্রেসিডেন্টের গেস্টহাউসে আসা যাওয়া করছেন। এবং মোটামুটি সব আধিকারিকেরাই এই বিষয়ে অবগত ছিলেন যে বেঞ্জামিন প্রতিবারই ভারী ভারী মালপত্র নিয়ে আসেন। ব্যাগ ও স্যুটকেস ভর্তি নোংরা জামাকাপড় থাকে। হোয়াইট হাউজের একজন আধিকারিক জানালেন, ‘‌তিনিই একমাত্র যিনি প্রতিবারই ব্যাগভর্তি জামাকাপড় এনে আমাদের দিয়ে কাচান। প্রচুরবার এ ঘটনা ঘটার পর আমরা বুঝতে পেরেছি যে এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়। তিনি গেস্টহাউজের লন্ড্রিতে বিনামূল্যে জামা কাচার সুবিধাকে কাজে লাগাচ্ছেন।’ যদিও ইজরায়েল সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘‌এটা আজব দাবি।’‌ তবে তাঁরা স্বীকার করেছেন যে এর আগেও বেঞ্জামিনের বিরুদ্ধে লন্ড্রি সংক্রান্ত অভিযোগ করা হয়েছিল।
২০১৬ সালে, নেতানইয়াহু দেশের তথ্য স্বাধীনতা আইনের আওতায় নিজের অফিস এবং ইজরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। কারণ, তাঁর পাহাড়সমান লন্ড্রি বিল প্রকাশ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। 
তাঁর এই বদঅভ্যাসের কথা প্রকাশ্যে আসতেই আমেরিকার ইজরায়েলি দূতাবাস থেকে একটি বিবৃতি পেশ করা হয়। যেখানে সম্প্রতি আমেরিকায় গিয়ে বেঞ্জামিন ও তাঁর স্ত্রী কী কী কাচতে দিয়েছিলেন, কী কী ইস্তিরি করতে দিয়েছিলেন, তার একটা তালিকা দেওয়া হয়েছে। ড্রাই ক্লিনিংয়ের জন্য একটি জামাও দেওয়া হয়নি। বৈঠকের আগে কেবল কয়েকটি শার্ট ধুতে দেওয়া হয়েছিল। ও প্রধানমন্ত্রীর স্যুট ও তাঁর স্ত্রীয়ের ড্রেস কেবল ইস্তিরিতে দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, এর জন্য এত কথা শুনতে হবে?‌ নাকি এই অভিযোগের মাধ্যমে আদপে মঙ্গলবারের ঐতিহাসিক শান্তি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নেতানইয়াহুর উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বকে ছোট করার চেষ্টা চলছে?

জনপ্রিয়

Back To Top