আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এইচআইভি আক্রান্ত পাকিস্তান। বিস্ময়কর হলেও এখন এটাই বাস্তব সিন্ধু প্রদেশে। গ্রামের পর গ্রাম আতঙ্ক আর হাহাকারে ভুগছে। হাসপাতাল–স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপচে পড়েছে ভিড়। সন্তানদের বাঁচাতে মহিলাদের আর্তনাদে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। একটা গোটা প্রদেশে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে এইচআইভি। সরকারি সূত্রে সংখ্যাটা ৪০০। যার মধ্যে অধিকাংশই শিশু।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ‌এপ্রিল মাসে সিন্ধু প্রদেশের লারকানা অঞ্চল লাগোয়া ওয়াসাও গ্রামে কয়েকজন এইচআইভিতে আক্রান্ত হন। ধীরে ধীরে সেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়েছে আশপাশের গ্রামগুলিতেও। ঘরে ঘরে সংক্রমণের শিকার মহিলা থেকে শিশু। সংখ্যাটা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন এলাকার লোকজন।
যদিও গ্রামবাসীদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু হাতুড়ে ডাক্তারদের গাফিলতিতেই এমন ঘটনা ঘটেছে। কোনওভাবে টীকাকরণের সময় বা শিশু‌–মহিলাদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার সময়ে সংক্রামিত সিরিঞ্জ ব্যবহার করেছিলেন চিকিৎসকরা। তা থেকেই এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাদের শরীরে। 
স্থানীয় বাসিন্দা মুখতার পারভেজ বলেন, ‘আমার মেয়ের জ্বর হয়েছিল। রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেল এইচআইভি পজিটিভ। কী করে এমন হল বুঝতে পারছি না।’ অপর বাসিন্দা নিশার আহমেদ বলেন, ‘‌আমার এক বছরের মেয়ে এইচআইভি রোগে আক্রান্ত। গ্রাম বা আধা শহরগুলিতে রমরমিয়ে ব্যবসা খুলে বসেছে হাতুড়ে ডাক্তাররা। তাদের গাফিলতিতেই এই সংক্রমণ মহামারীর আকার নিচ্ছে।’
দেশজুড়ে এইচআইভি সংক্রমণের কথা শিকার করে নিয়েছে পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকও। ঘটনায় হাতুড়ে ডাক্তারদের দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের গাফিলতিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। 
আন্তর্জাতিক সমীক্ষা বলছে, ২০১৭ সালে পাকিস্তানে ২০ হাজার মানুষ এইচআইভি সংক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। এইচআইভি সংক্রমণে বিশ্বের মধ্যে পাকিস্তানের স্থান দ্বিতীয়। পাক স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, এই মুহূর্তে গোটা দেশে প্রায় ৬ লক্ষ হাতুড়ে ডাক্তার রয়েছেন। শুধু মাত্র সিন্ধু প্রদেশেই সেই সংখ্যাটা আড়াই লক্ষের বেশি। 

 

 

 

ছবি: ডন ডট কম

জনপ্রিয়

Back To Top