আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মালয়েশিয়ার বিমান এমএইচ৩৭০–র নিখোঁজ রহস্যের সমাধান হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার একটি চ্যানেলের মতামত ভিত্তিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই দাবি করেছেন বিমান পরিবহন বিশেষজ্ঞরা, সমুদ্রবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা এবং অস্ট্রেলিয়ার পরিবহন সুরক্ষা ব্যুরোর প্রধান তথা এমএইচ৩৭০–র তদন্তকারী দলের নেতা। শেষ করা তদন্তের তথ্য দেখে তাঁদের মত, ওই বোয়িং ৭৭৭ উড়ানটি যখন নিজের গন্তব্যের পথ থেকে সরে যায়, সেসময় বিমানের যাত্রী এবং কর্মী সহ ২৩৯ জনই সম্ভবত অচেতন ছিলেন। শুধুমাত্র যিনি বিমান নিয়ন্ত্রণ করছিলেন, তিনিই সজাগ ছিলেন। এজন্য চালক ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানে আচমকা বায়ুশূন্য অবস্থার সৃষ্টি করেন। অন্যরা এজন্য প্রস্তুত না থাকায় অক্সিজেন মাস্ক ব্যবহার করতে পারেননি। ফলে সবাই জ্ঞান হারান। সেকারণেই হয়ত নিজের পথ থেকে ছিটকে যাওয়ার সময়েও বিমান সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ ছিল। কেউ কোনও বিদায়বার্তা পাঠাননি তাঁদের প্রিয়জনদের, রেডিও থেকে কোনও বিপদসঙ্কেত আসেনি, কোনও জরুরি বার্তাতেও সাড়া দেননি কেউ।

এখানেও তাঁরা নিশ্চিত নন, বিমান সেসময় পাইলট জাহারি আহমেদ শাহই চালাচ্ছিলেন নাকি অন্য কেউ। তবে জাহারিই বিমান চালাচ্ছিলেন বলে মনে করছেন তাঁরা, কারণ, তাঁর নিজের শহর মালয়েশিয়ার পেনাং–এর উপর থেকেই পথ বদলে বাঁদিকে সরে যায় এমএইচ৩৭০। বিশেজ্ঞদের মতে, জাহারি বিমানের সবাইকে নিয়েই আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নিশ্চিন্তে বিমানকে অন্তিম পরিণতিতে পৌঁছনোর অবকাশ পেয়েছিলেন তিনি।
২০১৪ সালের ৮ মার্চ ২৩৯ জনকে নিয়ে ভারত মহাসাগরের উপর থেকে হারিয়ে যায় কুয়ালালামপুর থেকে বেজিংগামী এমএইচ৩৭০। তারপর থেকে গত চার বছর ধরে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে তিনটি মহাসাগরে তল্লাশি চালিয়েও এখনও বিমানের ধ্বংসাবশেষের একাংশেরও খোঁজ পায়নি চারটি দেশের মিলিত তদন্তকারী দল। তবে বিশেজ্ঞরা ওই অনুষ্ঠানে একথাও স্পষ্ট করেছেন, এসবই তদন্তে মেলা তথ্য দেখে তাঁদের ধারণা। বিমান নিখোঁজের আসল রহস্য যাত্রী এবং পাইলটের সঙ্গেই চিরতরে হারিয়ে গিয়েছে সমুদ্রের অতলে।  

জনপ্রিয়

Back To Top