আজকালের প্রতিবেদন: সকলেই ভারতীয় নাগরিক। এনআরসি তালিকায় নাম রয়েছে। ভোটও দেন লোকসভা, বিধানসভা বা পঞ্চায়েতে। কিন্তু অসমের করিমগঞ্জ শহরের পাশে থেকেও ‌তঁারা আসতে পারছেন না নিজেদের দেশে। কঁাটাতারের ওপারে বন্দি সকলেই। লকডাউনের কারণে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ ছেড়ে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। এপারে বিএসএফ, ওপারে বিজিবি (‌বর্ডার গার্ড অফ বাংলাদেশ)‌।
করিমগঞ্জ শহরের কাছেই গোবিন্দপুর। কঁাটাতারের ওপারে। ৩৭টি পরিবারের বাস। সকলেই হিন্দু। নাগরিকত্বের সব পরীক্ষাতেই তঁারা পাশ। তবু বিজেপি শাসিত অসমে আসার উপায় নেই। অন্য সময় কার্ড দেখিয়ে সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত গেট খোলা থাকত। তঁারা বাজারহাট করতে আসতেন ভারতে। লকডাউনে সে সুবিধা নেই। গোবিন্দপুরের মতোই অবস্থা করিমগঞ্জের লক্ষ্মীবাজার, দেওতালি, কান্দি, কুয়ারবান্দা প্রভৃতি জনপদের। বাসিন্দারা বাইরে আসতে পারছেন না। লকডাউনে বেকায়দায় পড়েছেন করিমগঞ্জের মতোই ভারত–বাংলাদেশ ৪ হাজার ১৫৬ কিমি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারের বাসিন্দা বহু ভারতীয়। ত্রিপুরাতেই রয়েছে ৬১টি এ ধরনের জনপদ। পুনর্বাসন হয়নি। হয়নি কঁাটাতারের ওপারে তঁাদের ব্যক্তিজীবনেরও কোনও উন্নয়ন।
দিল্লিতে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকার গঠিত হওয়ার পর গতি পায় ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কঁাটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রকল্প। সীমান্তে কোনও ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ না থাকলেও দেড়শো গজ নিজেদের জমি ছেড়ে বেড়া দিতে সম্মত হয় বাজপেয়ী সরকার। ফলে বাংলা ছাড়াও অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরামের প্রচুর চাষজমি চলে যায় কঁাটাতারের ওপারে। চলে যায় বহু জনপদ। এখনও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি কেন্দ্র। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ভারতীয় নাগরিকদের। চাষ করে ফসল আনতে পারছেন না তঁারা। প্রায়ই বিএসএফের সঙ্গে বচসা লেগে থাকে তথাকথিত ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’–এর বাসিন্দাদের।
লকডাউনে সমস্যা আরও বেড়েছে। সম্প্রতি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নিজের এলাকার কঁাটাতারের ওপারের বাসিন্দাদের খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। তঁার অভিযোগ, অমানবিক পরিবেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় নাগরিকদের। কোনও সহায়তা দিচ্ছে না সরকার। জরুরি দরকারেও বাইরে আসতে পারছেন না তঁারা। অসহায় মানুষদের মধ্যে ত্রাণ বিলি করতে দেখা যায় কমলাক্ষকে। কুয়ারবান্দার আব্দুস সেলিম জানিয়েছেন, তঁাদের রোজগারের সময় রাস্তা বন্ধ। ন্যূনতম চিকিৎসাও জুটছে না। বিএসএফের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তঁারা। শিলচরের কংগ্রেস নেতা পার্থরঞ্জন চক্রবর্তীর অভিযোগ, বিজেপি সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য তিন পুরুষের বসতভিটাও হারাতে চলেছেন বহু গরিব মানুষ। অবিলম্বে তঁাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় কঁাটাতারের এপারে পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।

জনপ্রিয়

Back To Top