Kolkatay Mujib: ‘‌কলকাতায় মুজিব’‌,  ঢাকায় শুটিং শুরু করলেন গৌতম ঘোষ

তপশ্রী গুপ্ত, ঢাকা: তথ্যচিত্রের মূল প্রেক্ষাপট কলকাতা।

তবু শেখ মুজিবুর রহমানের শিকড় যেহেতু গাঁথা বাংলাদেশে, তাই সেখানেও একটি অংশের শুটিং করছেন পরিচালক গৌতম ঘোষ। ঢাকার ৩২ ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শুক্রবার সকালে শুটিং হল। এই বাড়িতে সপরিবারে বাস করতেন আর এখানেই ১৯৭৫ সালের অভিশপ্ত ১৫ই আগস্ট আততায়ীদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন তিনি। মুজিব পরিবারের বেশির ভাগটাই মুছে গেছিল সেদিন। ছোট্ট ছেলে শেখ রাসেলও রেহাই পায়নি। দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় বেঁচে গেছিলেন। তিনতলা বাড়িটির সর্বত্র বুলেটের দাগ, ইতিহাসের এক বিষণ্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী। আগামী কয়েকদিনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় শুটিং হবে। শহিদ মিনার, সোহরাওয়ার্দি উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় কারাগার বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এসব জায়গা। এরপর গৌতম ঘোষের টিম যাবে শেখ মুজিবের জন্মস্থান গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়া। সেখানে আছে তাঁর সমাধিও।
 তথ্যচিত্রের যৌথ প্রযোজক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রক ও ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ সংগঠন। শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হল এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য। পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘‌বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ নিবিড়। দাঙ্গার সময় মানুষের জন্য যা করেছিলেন, লিখে গেছেন নিজেই।’‌ পররাষ্ট্র দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী মহম্মদ শাহরিয়র আলম জানান, ‘‌কলকাতায় শুটিং শুরু হয়েছে আগেই। চিত্রনাট্য তৈরিতে সাহায্য করেছেন কলকাতার তপশ্রী গুপ্ত ও ঢাকার সোহেল। ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ–এর সহ সভাপতি সত্যম রায়চৌধুরী এই ছবি তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক চেতনার ভিত যেখানে শক্ত হয়েছিল সেই মৌলানা আজাদ কলেজ ও বেকার হস্টেলে কাজ করেছেন পরিচালক। জুনের মধ্যেই শেষ হবে এই তথ্যচিত্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর জন্য সাক্ষাৎকার দিতে সম্মত হয়েছেন।’‌ গৌতম ঘোষ বলেন, ‘‌কঠিন দায়িত্ব নিয়েছি। এই ছবি তৈরিতে একটা অন্য আবেগ কাজ করছে। আমি নিজে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শুনতে ছুটে গেছিলাম ব্রিগেডে। মূলত তাঁর লেখা ‘‌অসমাপ্ত আত্মজীবনী’‌ ও শেখ হাসিনার লেখা ‘‌আমার পিতা’‌ বই দুটি থেকে তথ্য পেয়েছি। এটি একটি প্রামাণ্য চিত্র, সুতরাং পুনর্নির্মাণের সুযোগ নেই।‘‌ ‘‌কলকাতায় মুজিব’‌ তথ্যচিত্র তৈরিতে সহযোগিতার জন্য কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাস ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান তিনি।
 এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এই তথ্যচিত্রের নেপথ্যের দুই কান্ডারী ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ–এর মুখ্য সমন্বয়ক এ এস এম শামসুল আরেফিন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রকের ডিরেক্টর জেনারেল তৌফিক হাসান, সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ এবং মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকেরা।

আরও পড়ুন:‌ প্রয়াত আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট, ৪০ দিন চলবে রাষ্ট্রীয় শোক

আকর্ষণীয় খবর