সমীর দে,ঢাকা:  বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দিল আদালত। ঘটনার ১৪ বছরেরও বেশি সময় পর। এই হামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান–সহ ২৪ জন প্রাণে মারা যান। আদালতের রায়ে প্রাক্তন মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, প্রাক্তন উপমন্ত্রী, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু–‌সহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরি–‌সহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারেক বিএনপি–র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন। ৪৯ জন আসামির মধ্যে বাকি ১১ জনের সাজা হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড। পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল–‌১–‌এর বিচারক শাহেদ নুরউদ্দিন বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় ৩১ জন আসামি আদালতে হাজির ছিল। ১৮ জন পলাতক। পলাতকদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পলাতকদের মধ্যে আছে তারেক। ব্রিটেনে আছে সে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে দুই প্রাক্তন মন্ত্রী ছাড়াও আছে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই‌–এর অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরি, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিম। অন্যদের অধিকাংশই জঙ্গি। 
মাওলানা তাজউদ্দিন ও মোহাম্মদ হানিফ পলাতক। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাকি ১৭ আসামি জেলে। প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। এছাড়া খালেদা–‌পুত্র তারেক রহমান–‌সহ ১৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে হত্যা–মামলায় ১৭ জনকে এবং বিস্ফোরক মামলায় ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 
এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়। গোড়ায় মামলার ৫২ জন আসামি ছিল। অন্য মামলায় তিনজনের ফাঁসি হয়েছে। তারা হল বিএনপি–জামায়াত জোটের মন্ত্রী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলি আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান এবং শরিফ শাহেদুল আলম। বাকি আসামিদের মধ্যে ৩১ জন কারাবন্দি। তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরি–সহ ১৮ আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন ব্রিটেন–‌সহ বিভিন্ন দেশে রয়েছে।
 

জনপ্রিয়

Back To Top