আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাশোগ্গির কালো রঙের অ্যাপ্‌ল কোম্পানির ঘড়ি যেভাবেই হোক খোঁজার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। গত ২ তারিখ সৌদি আরবের স্যুলেটে যুবরাজ মহমম্দ বিন সলমন বা এমবিএস–এর সাক্ষাৎকার নিতে ঢুকেছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক, খাশোগ্গি। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। নিজের দেশের সরকারের বেশ কিছু বিষয়ে নিজের লেখায় কড়া সমালোচনা করেছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক খাশোগ্গি। ভিন্নমত পোষণকারীদের উপর সৌদি সরকারের দমননীতি, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং কাতারের উপর জারি করা নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচক খাশোগ্গি দীর্ঘদিন ধরেই তুরস্কপ্রবাসী। তবে সৌদির রক্ষণশীল নীতি শিথিল করা, মহিলাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা দেওয়ার মতো এমবিএস–এর যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করতেন জামাল। গত একবছর হল আমেরিকার ভার্জিনিয়ায় চলে গিয়েছিলেন জামাল। লিখতেন ওয়াশিংটন পোস্ট–এ। খাশোগ্গি অন্তর্ধানের তদন্ত করছে তুরস্ক এবং আমেরিকা, দু’‌দেশই।
তদন্তকারীরা বলছেন, জামালের ওই কালো রঙের ঘড়িটি তাঁর মোবাইল ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত করা। ওই ফোনটিই জামাল কনস্যুলেটে ঢোকার আগে বাইরে রেখে গিয়েছিলেন। ১৫ জন রহস্যময় ব্যক্তির খোঁজও করছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের মতে, ওই ১৫ জন সৌদির গোয়েন্দা বিভাগের সদস্য। তাঁদের মধ্যে একজন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞও ছিলেন।

সুসুটুভু ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, জামাল কনস্যুলেটে ঢোকার প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই ১৫ জনের দলটি ঢোকে। দলটি কয়েক ঘণ্টা আগে নিজেদের ব্যক্তিগত বিমানে রিয়াধ থেকে পৌঁছেছিল। দিনের শেষে দলটি রিয়াধের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এছাড়া একটি গাড়ির সন্ধান করছেন তদন্তকারীরা। গাড়িটি বিমানবন্দরগামী দুটি গাড়ির পিছুপিছু কনস্যুলেট ছাড়লেও সেটি বিমানবন্দরের পথে না গিয়ে অন্য দিকে ঘুরে যায়। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই সূত্রগুলির সন্ধান পেলেই জামাল খাশোগ্গি অন্তর্ধান রহস্যের সমাধানসূত্র মিলে পারে। 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, এই ঘটনায় সৌদি আরব এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। এমনকি রিয়াধের সঙ্গে তার পশ্চিম দেশীয় শরিকদের বিবাদ লাগতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ বলছে, আমেরিকা থেকে জামালকে সৌদিতে ডেকে আনার জন্য তদন্তকারীদের একটি ভুয়ো অভিযানের নির্দেশ দেন যুবরাজ এমবিএস। সৌদির গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে এনিয়ে গোপনে আলোচনাও করেছিলেন এমবিএস। তদন্তকারীরা জেনেছেন, জামাল খাশোগ্গিকে বলা হয়েছিল, যুবরাজ তাঁর সঙ্গে বেড়ে চলা বিবাদ মিটিয়ে নিতে আলোচনায় বসতে চান। সেই মতো কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন জামাল। তিনি ভেবেছিলেন ছোট আলোচনা হবে তাঁদের মধ্যে। তুরস্কের নাগরিক তাঁর প্রেমিকাকে বিয়ের পথও এর ফলে খুলে যাবে বলে সম্ভবত আশা করেছিলেন খাশোগ্গি। মনে করছেন তদন্তকারীরা।                 ‌

জনপ্রিয়

Back To Top