সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: করোনার মোকাবিলায় পৃথিবী জুড়ে পরীক্ষা–‌নিরীক্ষা চলছে শতাধিক টিকা নিয়ে। দৌড়ের শেষ পর্বে আছে এখন তিনটি টিকা। এগুলি তৈরি করছে আমেরিকা, ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীন। জানাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এরই মধ্যে খবর, সবাইকে চমকে দিয়ে রাশিয়া নাকি দিন দশেকের মধ্যেই নিয়ে আসতে চলেছে টিকা!‌ রুশ আধিকারিকের দাবির ভিত্তিতে এই খবর দিয়েছে সিএনএন। 
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি রাজেশ ভূষণ বলেছেন, ২৪টি করোনা টিকার এখন নানা পর্যায়ে মানবদেহে পরীক্ষা চলছে, ১৪১টি টিকা রয়েছে তার আগের ধাপে, অর্থাৎ জীবজন্তুর ওপর পরীক্ষা চলছে। চূড়ান্ত ধাপে আছে তিনটি মাত্র টিকা। তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট রেগুলেটরের অনুমোদন নিয়ে টিকা তৈরি শুরু করা যেতে পারে। রাজেশ বলেছেন, ভারতে কাজ চলছে দুটি দেশে তৈরি টিকা নিয়ে। দুটি টিকারই প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা চলছে। একটির ক্ষেত্রে ৮টি জয়গায় ১,১৫০ জনের ওপর পরীক্ষা চলছে। অন্যটির জন্য পরীক্ষায় যোগ দিয়েছেন কম করে ১,০০০ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আধিকারিক জানান, ভারত যেহেতু টিকা তৈরির আন্তর্জাতিক হাব, তাই করোনা টিকা তৈরিতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেব। তবে ভারত এখনও প্রচুর সংখ্যায় টিকা তৈরির জন্য কোনও ওষুধ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেনি। কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে কথা চলছে, সরকার দেখছে, কীভাবে টিকাটি সাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, জানিয়েছেন রাজেশ।
এই মধ্যে রাশিয়ার দাবি, তারা সবাইকে পেছনে ফেলে লক্ষ্যে প্রায় পৌঁছে গিয়েছে। ১০ আগস্টের মধ্যেই এসে যাবে তাদের টিকা। ১৯৫৭ সালে বিশ্বে প্রথম উপগ্রহ স্পুটনিক ১ উৎক্ষেপণ করে নজির সৃষ্টি করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। চমকে দিয়েছিল আমেরিকাকে। কোভিডের প্রতিষেধক আবিষ্কারকে সেই ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছেন রাশিয়ার সভরেন ওয়েল্থ ফান্ডের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভ। সভরেন ওয়েল্থ ফান্ডের টাকায় এই টিকা তৈরি করছে মস্কোর গামালেয়া ইনস্টিটিউট। দিমিত্রিভ বলেছেন, ‘‌করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার স্পুটনিক মুহূর্ত। স্পুটনিকের সাফল্য মার্কিনিদের বিস্মিত করেছিল। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও ওই একই ঘটনা ঘটতে চলেছে। ফের প্রথম সাফল্য স্পর্শ করবে রাশিয়া।’‌ ১০ আগস্টের মধ্যেই ওই টিকাকে সর্বসাধারণের ব্যবহারে অনুমোদন দিয়ে দিতে পারে রাশিয়া। তবে প্রথমে এই টিকা দেওয়া হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের। 
রাশিয়া এই টিকার পরীক্ষা–‌নিরীক্ষা বিষয়ে বিশদ তথ্য কিছু জানায়নি। এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিশ্বের নানা মহলে সংশয়ও রয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই টিকা এখনও দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা–‌নিরীক্ষাই শেষ করে উঠতে পারেনি। প্রথম দফায় পরীক্ষা শেষ হয়েছে জুনে। ঝুঁকি নিয়েই তাড়াহুড়ো করছে রাশিয়া। সাধারণত একটি টিকাকে অনুমোদন দিতে হলে অন্তত তিনটে ধাপের পরীক্ষা–‌নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। বর্তমানে তিনটে টিকা–‌দাবিদার এই তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা–‌নিরীক্ষায় রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে অক্সফোর্ড–‌অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এ ছাড়া দুই মার্কিন সংস্থা মডার্না আর ফাইজারও তাদের টিকা–‌দাবিদারের তৃতীয় দফায় পরীক্ষা শুরু করেছে। যদিও রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য, দেশের সেনার ওপরে এই টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। এই টিকা–‌প্রকল্পের যিনি প্রধান, সেই আলেকজান্ডার গিন্সবার্গ বলেছেন, তিনিও এই টিকা নিজের শরীরে প্রয়োগ করেছেন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top