সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: রাফাল যুদ্ধবিমান কেনায় প্রশ্নের মুখে মোদি সরকারের সিদ্ধান্ত। লোকসভা ভোটের আগে রাফালের চুক্তি নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড শুরু হয়েছিল। এবার রাফাল ভারতে পৌঁছোতেই প্রশ্ন উঠছে আকাশছেঁায়া দাম নিয়ে। চীনের জে–১৬ এস–‌কে কতটা টেক্কা দিতে পারবে, প্রতিরক্ষা–‌ব্যবস্থার পক্ষে কতটা উপযোগী, তা নিয়ে সংশয়। আন্তর্জাতিক বাজারে রাফালের কোনও ক্রেতা নেই। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই রাফাল ব্রাত্য। তা সত্ত্বেও ভারত রাফাল কিনতে গেল কেন?‌ প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের। অধিকাংশ দেশ কেন রাফালকে প্রত্যাখ্যান করেছে, প্রকাশিত হয়েছে ইউরোএশিয়ান টাইম–‌এর প্রতিবেদনে। আমেরিকা, রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের সঙ্গে এই যুদ্ধযান টেক্কা দিতে কতটা পারবে, প্রশ্ন রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে।
মোদি সরকার প্রথমে ১২৬টি রাফাল কিনতে চেয়েছিল। শুনে অনেক সংস্থা দরপত্র দেয়। ঝাড়াই–‌বাছাই করে ইউরোফাইটার টাইফুন ও দাসো–র রাফালের দিকে আগ্রহ দেখায় ভারত। শেষে ফরাসি সংস্থা দাসো–‌র সঙ্গে চুক্তি করে। ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের রফা হয় ৬০,০০০ কোটি টাকায়। গত মাসে ৫টি রাফাল দেশে এসেছে। 
রাফাল নিয়ে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক জল সহযোগিতা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক অশোক সোয়ান টুইট করেছেন, ‘‌রাফাল পৌঁছোতে ভারতের সংবাদমাধ্যমে এমন করছে যেন চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয় করেছে!‌ রাফাল এত ভাল হলে ওমান, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, লিবিয়া, কুয়েত, কানাডা, ব্রাজিল, বেলজিয়াম, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সুইৎজারল্যান্ড, মালয়েশিয়া সকলেই প্রত্যাখ্যান করল কেন?‌ ভারত, কাতার আর মিশর শুধু কিনেছে।’‌
বিশেষজ্ঞদের কথায়, জিনিস কেনার সময় লাভক্ষতির দিকটাও দেখা দরকার। এফ–১৮, মিগ–২৯ বা এফ–৩৫–‌এর তুলনায় রাফালের দাম অনেক বেশি। দামের তুলনায় তত কাজের নয়। এই কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে রাফালের ক্রেতা নেই। রাফাল কিনে আর্থিক দিক থেকে লাভবান হয়নি ভারত।
রাফালের হালকা ওজন নিয়ে মাতামাতির কিছু নেই। রাফাল ভারী মানের এফ–১৫, সু–৩৫ কিংবা মাঝারি ওজনের এফ–১৬ভি, এফ–১৮ই বা মিগ–৩৫–‌এর সঙ্গেও এঁটে উঠতে পারেব না। রাফালের তুলনায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালী করতে হলে ওই ধরনের যুদ্ধবিমান সংগ্রহে রাখা দরকার। তাতে এক ঢিলে দুই পাখি মরবে। দামেও কম। কাজের উপযোগী।
২০০০ সালে রাফালকে বাদ দিয়ে আরও শক্তিশালী এফ–১৫ যুদ্ধবিমান কিনেছে দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর। মিশর বেশ কয়েকটা রাফাল কিনেছিল। পরে আরও কেনার কথা থাকলেও, সিদ্ধান্ত বাতিল করে রাশিয়ার থেকে ২৪টি সু–৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে। 
রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের দাবি, চীনের যুদ্ধবিমানের সঙ্গে পাল্লাই দিতে পারবে না রাফাল। চীনের জে–১৬এস–‌এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ২.‌‌২ হলে রাফালের ১.‌৮। রাফালের ইঞ্জিনের থেকে জে–১৬–‌র ইঞ্জিনও অনেক উন্নত। ভারতের কাছে ৩৬টি রাফাল থাকলেও, প্রযুক্তির দিক থেকে টেক্কা দেবে চীনের যুদ্ধবিমান। এই সব কারণেই রাফাল আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে পারেনি। যুদ্ধবিমান কেনার জন্য অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের পছন্দ রাশিয়া আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে ফ্রান্সের থেকে রাফাল কিনে ভারত বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেনি বলেই মনে করছেন তঁারা।

জনপ্রিয়

Back To Top