আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ তিন বছরের ছেলের কেঁদে ওঠায় তাঁদের বিমান থেকে নামতে বাধ্য করা হয়েছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে বৃহস্পত্‌বার এই অভিযোগ করলেন সড়ক, পরিবহন এবং হাইওয়ে মন্ত্রকের যুগ্মসচিব পর্যায়ের অফিসার এ পি পাঠক। তাঁর অভিযোগ, গত ২৩ জুলাই লন্ডন থেকে বার্লিনগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের উড়ান বিএ ৮৪৯৫–এ উঠেছিলেন সস্ত্রীক পাঠক। বিমান যখন রানওয়ে দিয়ে দৌড়তে শুরু করেছিল, তখন আচমকা কেঁদে ওঠে তাঁদের তিন বছরের ছেলে। সেসময় বিমানের এক পুরুষকর্মী এসে শিশুকে ধমকাতে থাকে। তাতে আরও ভয় পেয়ে চিৎকার করতে থাকে শিশুটি। পাঠকের আরও অভিযোগ, তাঁর ছেলের জানলার পাশে আসন থাকলেও ছেলেকে শান্ত করতে তাকে নিজের আসনে কোলে তুলে নিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। এরপরই অন্য কর্মীরা এসে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে বলে, সিটবেল্ট বাঁধতে এবং শিশুর কান্না না থামলে তাঁদের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে। আতঙ্কিত শিশু কাঁদতে থাকায় বিমানকে ফের টারম্যাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান পাইলট। বিমান থামতেই নিরাপত্তাকর্মীরা এসে তাঁদের বোর্ডিং পাস কেড়ে নিয়ে বিমান থেকে নেমে যেতে বাধ্য করে।

পাঠক বলেন, এরপর ফের বার্লিনে ফিরে যান তাঁরা সেদিনের মতো। এবং পরদিন অনেক বেশি টাকা দিয়ে লন্ডন যান। 
গোটা ঘটনার কথা অসামরিক পরিবহনমন্ত্রী সুরেশ প্রভুকে দু’‌পাতার চিঠি লিখে জানিয়েছেন পাঠক। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের কর্মীদের তাঁদের উদ্দেশ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য, দুর্ব্যবহারের কথা জানিয়ে চিঠিতে তিনি আবেদন করেছেন, ঘটনার যেন তদন্ত করা হয় এবং অভিযুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁর চিঠির পাওয়ার পর বৃহস্পতিবারই পদক্ষেপ করেছেন সুরেশ প্রভু। তিনি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকেও একই আবেদন জানিয়ে চিঠি লেখেন পাঠক। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজকেও তিনি অভিযোগ জানিয়ে চিঠি লিখলে কোম্পানির মুখপাত্র জানান, তাঁদের কোম্পানি কখনও এধরনের কাজের সমর্থন করে না। সাধারণত নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান ওড়ার সময় সব যাত্রীরই সিটবেল্ট বেঁধে রাখার নিয়ম রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ঠিক কী ঘটেছিল তা জানতে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে কোম্পানি এবং অভিযোগকারী গ্রাহকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।  

জনপ্রিয়

Back To Top