আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ লকডাউনে ঘরের মধ্যে আটকে থাকতে থাকতে মাতৃভাষার দিকে ঝোঁক বাড়ছে শিশুদের। বিদেশে থাকার ফলে সেদেশের মূল ভাষায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল যেই সন্তানেরা, তারা এই সময়ে নিজের শিকড়ে ফেরার রাস্তা খুঁজে পেয়েছে। 
করোনা ভাইরাসের একটি সুফল পাওয়া গিয়েছে এতমাস বাদে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং আরও কিছু সংস্থা ইংল্যান্ড ও নরওয়েতে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছে। যথাক্রমে ৭০০টি ও ২০০টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। যাঁদের বাড়িতে একাধিক ভাষায় কথা বলা হয়। দেখা গিয়েছে, এসমস্ত পরিবারে মোট ৪০টি ভাষায় কথা বলা হয়। হিন্দি, জুলু, কিরুন্ডি, উর্দু, পাঞ্জাবী, স্প্যানিশ, পোলিশ, ফ্রেঞ্চ, ইত্যাদি। কিন্তু যেদেশে তাঁরা থাকেন, সেদেশের মূল ভাষাটিই পরের প্রজন্মের সহজ হয়ে দাঁড়ায়। যতই বাড়িতে মাতৃভাষায় কথা বলা হোক না কেন। স্কুল, কলেজে ভর্তি হওয়ার পর বদলে যায় সমস্ত পরিস্থিতি। এবারে এই বিশেষ সময়ে চিত্রটি বদলে যেতে শুরু করে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই দুই দেশের বহু বিদেশি পরিবারেই শিশুরা ও কিশোর–কিশোরীরা তাঁদের মাতৃভাষার দিকে ঝুঁকছেন।   
● ‌লন্ডনে বসবাসকারী এক জার্মান পরিবার
মহিলা জানালেন, ‘‌আমার তিন বছরের ছেলে ইংরেজি ভাষায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল।জন্মানোর পর থেকেই আমি তঁর সঙ্গে কেবল জার্মান ভাষায় কথা বলেছি। কিন্তু স্কুলে ভর্তি করার পর এবং সেখানে বন্ধু হতেই সে জার্মান ভাষা ভুলে যেতে আরম্ভ করেছিল। এছাড়া আমার স্বামীও ইংরেজ। কিন্তু মহামারীর কারণে লকডাউন হতেই সে এখন বাড়িতে আমার সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছে। আর এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে সে তার বাবার কথার উত্তর দেয় জার্মান ভাষাতেই।’‌
● ‌নরওয়েতে বসবাসকারী এক আমেরিকান পরিবার
ওসলো ইউনিভার্সিটির ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক ডঃ এলিজাবেথ লানজা জানালেন, ‘‌আমি আমেরিকান। কাজের সূত্রে নরওয়েতে থাকি। আমি নিজের পরিবারেই ভাষার বিবর্তনটা লক্ষ্য করেছি। আমার মেয়ে তাঁর সন্তানের সঙ্গে ইংরেজিতেই কথা বলে। আবার তাঁর স্বামী বাচ্চাটির সঙ্গে নরওয়ের ভাষায় কথা বলেন। লকডাউনের আগে বাচ্চাটি ‘‌মের’‌ শব্দটি ব্যবহার করত। লকডাউনের পরে দেখা গেল ‘‌মের’‌–এর ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘মোর‌’‌ শব্দটিই তার মুখে বেশি শোনা যাচ্ছে।’‌ ডঃ এলিজাবেথই জানালেন যে এই ভাষা ব্যবহারের অদলবদল কিন্তু সব পরিবারে দেখা যায়নি। কিছু পরিবারের এই সৌভাগ্যটি হয়েছে। আর তাঁদের জন্যেই এই সমীক্ষা। আসলে প্রথম প্রজন্মের যাঁরা নিজের জন্মস্থল ছেড়ে বাইরে গিয়ে থাকেন, তাঁরা চান তাঁদের ঐতিহ্যটি পরিবারের ছোটদের মধ্যে দিয়ে জিইয়ে রাখতে। ছোটদের মধ্যে মাতৃভাষার ঝোঁক লক্ষ্য করে তাঁরা অত্যন্তই খুশি। আর সে জন্যেই এই ‘‌সৌভাগ্য’ শব্দটি ব্যবহার করা হল।‌

জনপ্রিয়

Back To Top