আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ হোটেল রুমের শৌচাগারে মহিলার স্নানের দৃশ্য বিভিন্ন পর্ন সাইটে ভাইরাল হয়ে গেল। এমনকি পর্ন সাইটে ওই মহিলার পুরো নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ মহিলা ওই বিলাসবহুল হোটেল কোম্পানির বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানহানির মামলা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৫ সালের জুলাইয়ে নিউ ইয়র্কের অ্যালব্যানিতে। বিলাসবহুল হোটেল চেইন হিলটন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের হ্যাম্পটন ইন অ্যান্ড সুইটস্‌–এ। আইনের স্নাতক ওই মহিলা পরীক্ষা দিতে অ্যালব্যানি গিয়েছিলেন এবং ওই হোটেলে ছিলেন। নিজের রুমের শৌচাগারে তাঁর স্নানের দৃশ্য গোপন ক্যামেরায় তোলা হয় এবং সেগুলি তাঁর নাম সহ একাধিক পর্ন সাইটে আপলোড করে দেওয়া হয়।
এবছর তাঁর ই–মেলে সেই স্নানের ছবির ভিডিও লিঙ্ক এবং নাম সহ ফুটেজটি পোস্ট করে এক ব্যক্তি। তারপরই তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। মহিলার অভিযোগ, অভিযুক্ত পোস্টে নিজেকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে উল্লেখ করে তাঁকে হুমকি ভরা ই–মেল পাঠাতে থাকে। পোস্টে সে দাবি করে মহিলা সম্পর্কে সে সব কিছু জানে। তিনি হুমকিতে গুরুত্ব না দিলে তাঁর বন্ধু, সহকর্মী এবং আত্মীয়দের ভুয়ো ই–মেল অ্যাড্রেস থেকে মহিলার নাম সহ স্নানের ফুটেজ পাঠিয়ে দেয় অভিযুক্ত। তারপর মহিলার কাছে অবিলম্বে ২০০০ মার্কিন ডলার এবং এক বছরের জন্য প্রতি মাসে ১০০০ মার্কিন ডলার দাবি করে।
এরপরই হিলটন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে কোম্পানিকে ১৯ পাতার আইনি চিঠি পাঠিয়েছেন মহিলা। চিঠিতে তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনার জন্য তাঁকে অত্যন্ত মানসিক আতঙ্ক এবং সামাজিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মহিলার আরও অভিযোগ, ওই রুমে এর আগে যারা ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও এধরনের ঘটনা ঘটেছিল।
যদিও হিলটন হোটেল কোম্পানির তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, তাঁদের কাছে গ্রাহকদের নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্যই সর্বপ্রথম। এধরনের কোনও ঘটনা ঘটে থাকলে তারা তদন্তকারীদের অবশ্যই সবরকম সাহায্য করবে এবং কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সম্প্রতি হ্যাম্পটন ইন অ্যান্ড সুইটস্‌–এর পুনর্নবীকরণ করা হয়েছে। সেসময় কোনও রুম বা শৌচাগার থেকেই কোনও গোপন ক্যামেরা মেলেনি বলেও বিবৃতিতে দাবি করেছে হিলটন কর্তৃপক্ষ।    ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top