আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ জুন মাস মানেই ‘‌প্রাইড আন্দোলন’–এর মাস।‌ আর এই আন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখাতেই এমাসের শেষ দিন ডুড্‌ল তৈরি করল গুগ্ল। বিশেষ দিন হোক বা বিশেষ মানুষের জন্মদিন বা মৃত্যুদিন। গুগলের ক্যালেন্ডার থেকে বাদ পড়ে না কোনওকিছুই। অভিনব পদ্ধতিতে সম্মান জানায় তারা। গুগলের হোমপেজ সেজে ওঠে বিভিন্ন ডুড্‌লের শোভায়। এবারও তাই ‘‌প্রাইড আন্দোলন’–এর মাসে সমকাম–অধিকারের সক্রিয় কর্মী মারশা পি জনসন–কে সম্মান জানাল তারা। 
কে এই মারশা পি জনসন?‌
তাহলে শুরু করতে হবে ‘‌প্রাইড আন্দোলন’‌ দিয়ে। সংক্ষেপে, ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত আমেরিকায় সমকামিতা একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হত। অসংখ্য অত্যাচারের স্বীকার হতে হয়েছে সমকামীদের। ২৮ জুন ১৯৬৯ সালে ম্যানহ্যাটানের স্টোনওয়াল সরাইখানায় আচমকাই সমকামী মানু্ষদের ওপর পুলিশ অত্যাচার করে। ধীরে ধীরে সে অত্যাচার হিংসাত্মক আকার নিতে শুরু করলে সরাইখানা ও সমকামী পানশালার খদ্দেররা মিলে রুখে দাঁড়ান। সেই থেকে নিজেদের ভালবাসার কথা উচ্চস্বরে বলতে শুরু করেন তাঁরা। প্রশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে। সেই ঘটনার বার্ষিকীতে ১৯৭০ সালের জুন মানুষ লক্ষ লক্ষ মানুষ পথে নামেন। আর সেই থেকেই বিশ্বের একাধিক দেশে এই মাসটিকে পালন করা হয় ‘‌প্রাইড’‌–এর মাস হিসেবে। এদিন যে যার পছন্দমতো পোশাক পরে হাতে রামধনুর পতাকা নিয়ে রাস্তায় হাঁটেন। একধরণের উৎসব বলা যেতে পারে। ভালবাসার উৎসব। মুক্ত হওয়ার উৎসব। কিন্তু ‘‌প্রাইড’‌ কেন?‌ সমকামী ও প্রান্তিক যৌনতার মানুষদের এই আন্দোলন। ‘‌প্রাইড’–এর অর্থ একটি ইতিবাচক অনুভব।  যা নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ, প্রয়োজনীয় বলে মনে করায়। এখানে যৌনতা হোক বা প্রেম দকে হোক, নিজেদের পছন্দটাকে প্রাধান্য দেওয়া, নিজের জন্য গর্ববোধ করাই ‘প্রাইড আন্দোলন‌’। আর সেই স্টোনওয়াল ‌আন্দোলনের এক উজ্জ্বল মুখ মারশা পি জনসন।
এদিনের ডুড্‌লটি করেছেন লস এঞ্জেলেস–এর শিল্পী রব গিলিয়াম। ডুড্‌ল–এ দেখা যাচ্ছে, মারশা সেজেগুজে ‘‌প্রাইড ওয়াক’‌–এ অংশগ্রহণ করেছেন। পেছনে রামধনু রঙের পতাকা। ডুড্‌লটিতে তাঁর গল্পটিও বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর আগের নাম ছিল ম্যালকম মাইকেল জুনিয়র। গ্রিনিচ গ্রামে গিয়ে থাকা শুরু করার পর তিনি নিজের নাম বদল করেন। কিন্তু তিনি তাঁর লিঙ্গ পরিবর্তন করেন। তাই তাঁকে তাঁর লিঙ্গের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তার উত্তর তিনি তাঁর নতুন নামের মধ্যেই লুকিয়ে রেখেছিলেন। ‘পি‌’‌–এর অর্থ ‘‌পে ইট নো মাইন্ড’। যার মানে হল, আমার লিঙ্গ কী সেটা নিয়ে মাথাব্যথা করিও না। ২০১৯ সালে গ্রিনিচ গ্রামে তাঁর একটি মূর্তি বানানো হবে বলে ঘোষণা করা হয়। এই প্রথম কোনও রূপান্তরকামী মানুষের মূর্তি বানানো হবে এদুনিয়ায়।
 

জনপ্রিয়

Back To Top