সংবাদ সংস্থা, গাজা: তেল আভিভ থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মার্কিন দূতাবাস। সোমবার হয়েছে উদ্বোধনও। কিন্তু গাজা সীমান্তে দূতাবাস সরানোর বিরোধিতায় ৬ সপ্তাহ ধরে সমানতালে চলছে বিক্ষোভ–বিদ্রোহ–প্রতিবাদ। সোমবার উদ্বোধনের দিন সেই বিদ্রোহের আগুনে ঘি পড়েছে ব্যাপক হারে। ফলে প্রতিবাদ যে এত ভয়ানক ও মারাত্মক হতে পারে তা দেখেছেন তামাম বিশ্বের মানুষ। শুধু ওই একদিনেই ইজরায়েলি সেনার সঙ্গে লড়াইয়ে মারা গেছেন ৫৯ জন প্যালেস্তাইনি!‌ যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কিশোর। রয়েছে একজন ‌কিশোরীও। জখম প্রায় ২৪০০। এত অশান্তির মধ্যেও অবশ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়েছে নিজের আমেজেই। নির্দিষ্ট সময় ও নির্ঘণ্ট মেনে। কথা মতোই হাজির ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–তনয়া ইভাঙ্কা, জামাই জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি সেক্রেটারি জন সুলিভান।

 
জেরুজালেমে দূতাবাস সরানোর প্রতিবাদ করতে সোমবার সকাল থেকেই গাজা সীমান্তে জড়ো হতে থাকেন হাজার হাজার প্যালেস্তাইনি। হাতে জ্বলন্ত টায়ার, আগুন–ঘুড়ি, ইট, পাথর নিয়ে হাঙ্গামার জন্য রীতিমতো মুখিয়ে ছিলেন তাঁরা। সীমান্তের ওপারে প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইজরায়েলি সেনাবাহিনীও। সীমান্ত পার হওয়ার জন্য প্যালেস্তাইনিরা পা বাড়ালেই ভূরি ভূরি কাঁদানে গ্যাসের সেল ছুঁড়তে থাকে ইজরায়েলি সেনা। বাদ যায়নি গুলি, সামরিক ট্যাঙ্ক, ড্রোনের সাহায্যে গোলাবৃষ্টিও। এর মধ্যেই টেনিস র‌্যাকেটের সাহায্যে কাঁদানে গ্যাসের সেল ইজরায়েলি সেনার দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বুমেরাং ঘটিয়েছেন বেশ কিছু বিক্ষোভকারী। সোমবার ১৪ মে ছিল ইজরায়েলের ৭০তম প্রতিষ্ঠা দিবস। ‘‌আমেরিকা ক্ষমতা দেখাচ্ছে। ট্রাম্প প্যালেস্তাইনকে আঘাত করেছেন।

এটা দুঃখের। প্যালেস্তাইন ৭০ বছর ধরে লড়ছে স্বাধীনতার জন্য। লড়াই তাদের রক্তে।’‌ মন্তব্য করেছেন প্যালেস্তাইনের শিক্ষামন্ত্রী সাব্রি সইদাম। যদিও ইজরায়েল এই বিক্ষোভের দায় চাপিয়েছে প্যালেস্তাইনি জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস–এর কাঁধে। বলা হয়েছে, তারাই আড়ালে থেকে বিক্ষোভকারীদের ইন্ধন জুগিয়েছে। এদিকে জেরুজালেম শহরের দক্ষিণে একটি পুরনো বাড়িতে অস্থায়ীভাবে চালু হয়েছে মার্কিন দূতাবাসের কাজকর্ম। ভবিষ্যতে গড়ে তোলা হবে নতুন বাড়ি। তখন দরকার মতো তেল আভিভ বা জেরুজালেমে থাকতে পারবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচারে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় এসে কথাও রাখলেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর ‘‌কথা রাখার’‌ ফলে শান্তি এবং সুস্থিতিতে ঘা পড়বে গোটা বিশ্বে। 

জনপ্রিয়

Back To Top