আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ চীনা পুলিশকে আর কোনও সহযোগিতা নয়। হংকংবাসীর কোনও গোপন তথ্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। ঘোষণা করে দিল গুগল, ফেসবুক, হোয়াটস্‌অ্যাপ, টেলিগ্রাম, টুইটার। তাদের দাবি, এতে হংকংবাসীর গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুন্ন হবে।
যদিও অ্যাপল এখনও এই পথে এগোয়নি। কারণ চীনের মূল ভূখণ্ডেও তাদের পরিষেবা নিষিদ্ধ নয়। তবে বাকি সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, হোয়াটস্‌অ্যাপ, টেলিগ্রাম, টুইটার সহ গুগল নিষিদ্ধ। এখন এই সংস্থারগুলোর সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই চাপে ফেলে দিল অ্যাপল–কে। চাপে রেখেছে মাইক্রোসফটকেও। কারণ তারাও চীনা পুলিশকে অসহযোগিতার কথা ঘোষণা করেনি। চীনের মূল ভূখণ্ডে তাদেরও অবাধ গতিবিধি। ইতিমধ্যেই মাইক্রোসফট চীনা পুলিশকে হংকংবাসীর গোপন তথ্য তুলে দিয়েছে বলে খবর। 
জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত হংকংয়ের অ্যাপল ইউজারদের গোপন তথ্যও তুলে দেওয়া হয়েছে চীনা পুলিশের হাতে। সংস্থা নিজেই তা করেছে। অ্যাপ্‌ল–এর সাম্প্রতিক স্বচ্ছতা রিপোর্টই সেকথা জানিয়েছে। যদিও তখনও হংকংয়ে চীনের নতুন আগ্রাসী নিরাপত্তা আইন আরোপ করা হয়নি। 
চীনা পুলিশকে অসহযোগিতার সিদ্ধান্ত প্রথম নিয়েছে টেলিগ্রাম। তাদের সদর দফতর লন্ডনে। তারা জানিয়েছে, হংকংবাসীর গোপনীয়তার অধিকারকে সম্মান করে সংস্থা। তাই এ ধরনের কোনও তথ্য চীনা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। ফেসবুক জানিয়েছে, ‘‌অনুভূতি প্রকাশের অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। নির্ভয়ে, নিরাপদে ভাব প্রকাশকে আমরা তাই সমর্থন করি।’‌ 
হোয়াটস্অ্যাপে চ্যাটের তথ্য এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন থাকে। সেই তথ্য প্রেরক এবং গ্রহীতা ছাড়া কেউ পেতে পারেন না। কিন্তু ফেসবুক মেসেঞ্জারের সে রকম কোনও ব্যবস্থা নেই। হোয়াটস্‌অ্যাপ এখন ফেসবুক–এর মালিকানাধীন। সংস্থা জানিয়েছে, কোনও দেশের স্থানীয় আইন মেনে গ্রাহকের গোপন তথ্য দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি লঙ্ঘন করলে চলবে না। 
চীনের মূল ভূখণ্ডে যা করা যেত না, এতদিন হংকংয়ে সে রকম অনেক কিছু চলত। হংকংবাসীর প্রতিবাদের অধিকার ছিল। স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ছিল। এবার সেই অধিকার কেড়ে নিয়ে নতুন আইন পাশ করেছে বেজিং। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই শহর ছিল ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে। সেই বছরই বিশেষ কিছু শর্ত দিয়ে চীনকে হস্তান্তর করা হয় হংকং। 


 

 


 

জনপ্রিয়

Back To Top