সংবাদ সংস্থা, ব্রাসেলস: মার্চের শুরুতে নতুন করে হাড়‌কঁাপানো ঠান্ডার খপ্পরে প্রায় গোটা ইউরোপ। তুষারঝড় আর কনকনে হাওয়া ঘরবন্দি করে ছেড়েছে ব্যস্ত জনজীবনকে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকেই অবশ্য হাড়ে হিম ধরানোর প্রস্তুতি চালাচ্ছিল ঠান্ডা। সেই ধারাবাহিকতাতেই পারদ নামতে নামতে বৃহস্পতিবার এসে ঠেকেছে মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঠান্ডার দাপট সইতে না পেরে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু–‌সংখ্যাও। এই ক’‌দিনেই গোটা ইউরোপে মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। পোল্যান্ডেই সংখ্যাটা ২১। তা ছাড়া চেক রিপাবলিকে ৬, লিথুয়ানিয়ায় ৫, ফ্রান্সে ৪, স্পেনে ৩, ইতালি, রোমানিয়া ও স্লোভেনিয়ায় ২ জন করে এবং ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আশঙ্কার কথা, আবহাওয়াবিদরাও কিন্তু আশার কথা শোনাতে পারছেন না। তঁাদের দাবি, সামনের এক সপ্তাহে আরও কমবে তাপমাত্রা। বলেছেন, বছরের এই সময় ইউরোপে তুষারপাত খুবই অস্বাভাবিক। আর আবহাওয়ার এই ভোল বদলের পিছনে মূল চক্রী বিশ্ব উষ্ণায়ন। ফলে বাড়বে তুষারপাতের পরিমাণও। এ ছাড়া এজন্য তঁারা কাঠগড়ায় তুলেছেন উত্তর মেরু থেকে হুহু করে ছুটে–‌আসা কনকনে হাওয়াকে। তীব্র শীত ও ভয়াবহ বরফঝড়ের কারণে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে ইয়োরোপের বেশ কিছু বিমানবন্দর। ঝড়ের দাপট সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে দক্ষিণ–পশ্চিম ইংল্যান্ড, দক্ষিণ ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায়। এই সব জায়গায় তুষারঝড় ও ব্যাপক ঠান্ডার চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

পোল্যান্ডে মারা গেছেন ৮ জন। রোমে গত সোমবার থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুল–‌কলেজ। বন্ধ রাখা হয়েছিল জার্মানির ব্রিমেন ও কোলন–বন বিমানবন্দরও। শুধুমাত্র উত্তর জার্মানির লুবেক শহরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ‌চাকা পিছলে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে একশোরও বেশি গাড়ি। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোফভেনের গাড়িটিও উপসালা শহরের কাছে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় পড়ে। বরাতজোরে বেঁচেছেন লোফভেন। স্টকহলমে তুষারপাতের কারণে একই সঙ্গে অন্তত ২০টি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। ২০১৭–তে অস্ট্রিয়া আইন করে নকাব ও বোরখা পরে বা মুখ ঢেকে চলাফেরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ভয়াবহ ঠান্ডার কারণে কপাল থেকে থুতনি ঢেকে চলাফেরার বিষয়ে নতুন নির্দেশ জারি করেছে তারা।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের মেয়র ভিনসেন্ট দ্য ভলফ সেখানকার গৃহহীনদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। তুষারপাতের কারণে এডিনবরা, উত্তর ইতালি, ফ্রান্সের বিভিন্ন জায়গায় যান–‌চলাচল বিপর্যস্ত। বৃহস্পতিবার সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভা এবং স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিমানবন্দর দীর্ঘক্ষণ বন্ধ রাখা হয়। এডিনবরা, ডাবলিন ও আমস্টারডামের শিফোল বিমানবন্দর থেকে ডজনখানেক উড়ান বাতিল করা হয়। আগামী শনিবারের আগে বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক হবে না বলেই খবর। রেল লাইনে বরফ জমে থাকার কারণে উত্তর ইতালিতে ৫০ শতাংশেরও বেশি ট্রেন চলছে না। প্রকৃতির এই খেয়ালিপনায় স্বাভাবিক ভাবেই নাজেহাল ইউরোপবাসী। বসন্ত কি তবে ঢেকে যাবে বরফের বোরখায়?‌ এটাই এখন কয়েক কোটি টাকার প্রশ্ন।‌ ছবি: এপি/এএফপি

জনপ্রিয়

Back To Top