আজকাল ওয়েবডেস্ক: কোভিড মহামারীর পর লকডাউনের সময় বন্ধ হয়েছিল সীমান্ত। অবশেষে মঙ্গলবার থেকে ১৪টি রাষ্ট্রের পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিল ইওরোপিয়ান ইউনিয়ন বা ইইউ। তবে এই ১৪ রাষ্ট্রের তালিকায় নেই ভারত, আমেরিকা, রাশিয়া এবং ব্রাজিল নেই। তার কারণ হিসেবে ইইউ সাফ বক্তব্য, এই দেশগুলিতে ক্রমাগত বেড়ে চলা করোনা সংক্রমণ।
মহামারীর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতেই ধস নেমেছে। ইওরোপও তার থেকে বাদ পড়েনি। গ্রিস, ইতালি, স্পেনের মতো ইইউভুক্ত দেশগুলিতে অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই সঙ্গিন। সেই বিপর্যয় মোকাবিলার তাগিদেই পর্যটন শিল্পকে আঁকড়ে ধরতে চাইছে এই দেশগুলি। যে দেশগুলি এই তালিকাভুক্ত হয়েছে সেগুলি হল অ্যালজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জর্জিয়া, মন্টেনিগ্রো, মরোক্কো, নিউ জিল্যান্ড, রাওয়ান্ডা, সার্বিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, টিউনিশিয়া, জাপান এবং উরুগুয়ে। এই দেশগুলির পর্যটকরা ইইউ–র ২৭টি সদস্য দেশ এবং ইওরোপের ভিসা–ফ্রি শেনজেন ট্রাভেল জোনের চারটি দেশে ঘুরতে যেতে পারেন। কিন্তু ব্রেক্সিটের পর ব্রিটেন ইইউ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় এর মধ্যে সেই দেশ নেই।
চীন সম্পর্কে ইইউ–র বক্তব্য, চীনে নাগরিকদের ইওরোপে প্রবেশ দেওয়ার আগে চীনকে ইওরোপীয় নাগরিকদের সেখানে ঢোকার উপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া যেসব দেশগুলিতে করোনা আক্রমণ করেনি, সেই দেশগুলিও ইওরোপীয় পর্যটকদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে। তবে এই তালিকা প্রতি ১৪ দিন অন্তর নতুন করে তৈরি হবে। কারণ কিছু নতুন দেশ তালিকাভুক্ত হতে পারে, যদি সেখানে মহামারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এবং কিছু দেশ তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে যদি সেখানে পরিস্থিতি আবার খারাপ হয়ে পড়ে। জার্মানির পশ্চিমাঞ্চল ছাড়া প্রায় সারা ইওরোপেই এখন সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে।
তবে পর্যটকরা কতটা এই সুযোগ নেবেন তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। কারণ গত মার্চে লকডাউনের পর অনেকে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়ে বাড়ি ফিরতে সমস্যায় পড়েন। অনেক দেশে আবার নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তাছাড়া হোটেল বা পর্যটনস্থলের সুরক্ষা, টিকিট বুকিং সংক্রান্ত ঝামেলাও অনেকে এড়াতে চাইবেন এই পরিস্থিতি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।           

জনপ্রিয়

Back To Top