আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ–প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ ইথিওপিয়া। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত মৃত আন্দোলনকারীর সংখ্যা ৮৬ জন। আটক করা হয়েছে ৪০৯ জনকে। ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবাই আহমেদের বিরোধিতায় চলা বিক্ষোভ দ্রুত সাম্প্রদায়িক বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইথিওপিয়ার রাজধানী আদিস আবাবা লাগোয়া আম্বো শহরে সফরে গিয়েছিলেন আহমেদ। প্রধানমন্ত্রী যখন সরকারি ভবনে স্থানীয় রাজনীতিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন, তখনই ভবনের বাইরে জড়ো হয়ে আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান তোলে কয়েকশো জনতা।
ঘটনার সূত্রপাত, দেশের জনপ্রিয় সমাজসেবী জাওয়ার মহম্মদের একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, সরকারি নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁর নিজের বাড়িতেই তাঁকে হত্যার চক্রান্ত করছে। যদিও জাওয়ারের সেই অভিযোগ নস্যাৎ করেছে ইথিওপিয়ার পুলিস। বিশেষ সূত্রে খবর, বিক্ষোভকারীদের স্লোগানের জেরে বৈঠক মাঝপথেই থামিয়ে বিদায় নেন আহমেদ। কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে হেলিকপ্টারে এয়ারলিফ্‌ট করে আদিস আবাবায় নিয়ে যাওয়া হয়। আহমেদ চলে যেতে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।

কিন্তু তারপরই জাওয়ার ফের অভিযোগ করেন তাঁর বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিস এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তা উঠিয়ে নিতে চাইছে। জাওয়ারের এই অভিযোগের পরই বিক্ষোভকারীরা তেতে ওঠে। তাঁকে বিনা কারণে হয়রানির অভিযোগ করে তারা। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পুলিস লাঠিচার্জ করে, জলকামান দাগে এবং টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটায়। কিন্তু তা উত্তরোত্তর বেড়ে চললে গুলি ছোড়ে পুলিস। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৭৮ জনের। গুরুতর জখম হন আরও অনেকে। তাঁদের মধ্যে অনেকের পরে মৃত্যু হয়েছে। এখনও আশঙ্কাজনক অনেকে। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর এভাবে নির্বিচারে গুলি চালানোর জন্য ইথিওপিয়া সরকারের কড়া নিন্দা করেছে তাবড় রাষ্ট্রগুলি।  
ইথিওপিয়ার বৃহত্তম গোঁড়া সনাতনপন্থী গোষ্ঠী ওরোমো–র প্রথম নির্বাচিত প্রতিনিধি আহমেদ গত মাসেই বিগত ২০ বছর ধরে ইথিওপিয়া–এরিট্রিয়ার মধ্যে চলা লড়াই থামানোর জন্য ২০১৯–র নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। জাওয়ার নিজেও ওরোমো গোষ্ঠীর সদস্য। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ২০১৮–র এপ্রিলে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সংস্কার শুরুর নামে একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন।             

জনপ্রিয়

Back To Top