সুমনা আদক: 

শিউলি ঝরা শিশির ভোরে, মহালয়ায় বীরেন্দ্র ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর সুর জানান দেয় ‘‌মা আসছেন’‌। দিনে দিনে সময়ের মুহূর্তগুলো কখন যে শারদ–আনন্দে ডুব দেয়, বোঝাই যায় না। দেখতে দেখতে স্বদেশের সীমানা ছাড়িয়ে শারদ আনন্দের রেশটা পৌঁছে যায় প্রবাসে। এতদিন এমনটাই চলছিল। কিন্তু ২০২০–র এই উলটপুরাণে পাল্টে গেল সময়টা। এই তো সেদিনের কথা, ফেসবুক পেজে গত বছরের এডিনবার্গের ‘‌সাবাশ’‌ পুজো কমিটির উদ্যোগে পুজোর দিনের স্মৃতিগুলো এখনও যেন সতেজ রয়েছে। ষষ্ঠীর বোধন থেকে অষ্টমীর অঞ্জলি, সন্ধি পুজা, কুমারী পুজো হয়ে মায়ের বিদায় বেলায় সিঁদুরে রাঙা হওয়া, প্রাসাদ বিতরণ হয়ে বারবেলায় একসঙ্গে পাতপেরে বাঙালি খাবার খাওয়া। এডিনবার্গের এমন দিনগুলো মনে করায় কলকাতার কথা। পুজো–আনন্দ–আড্ডা, যাকে বলে বাঙালির বৈঠকখানা। ষষ্ঠী থেকে নবমীর প্রতিটা সন্ধ্যা ছিল নাটক–নাচে–গানে–কবিতায় একেবারে জমজমাট। সবাই ভেবেছিল, এরপরের পুজোটা হবে দুর্দান্ত। 

কিন্ত এমনটা যে হয়ে যাবে কেউ ভাবতেই পারেনি কখনও। স্বদেশে–বিদেশে কেমন পাল্টে গেল সময়টা। এবারের শারদোৎসবের বেরঙিন আমেজটাই ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে। এডিনবার্গের বাঙালিদের কাছেও এবারের পুজোটা যেন স্বপ্নভঙ্গের মতো। না, এবারে এডিনবার্গের মাটিতে উমা আসছেন না। মায়ের বোধন অঞ্জলি, সন্ধি পুজো, কুমারী পুজো, গল্প, আনন্দ, স্টাইল ফটোশেসন, খাওয়া–দাওয়া সিঁদুর খেলা– এবারে সবই বন্ধ এখানে। ফেলে আসা দিনগুলো  বার বার মনে পরে। দেখতে দেখতে বছরটাও শেষের দিকে। বেজায় মোনখারাপের সময় এটা। একটু হলেও আনন্দ খুঁজে নিতে অনলাইনে চারিদিকেই চলছে সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এডিনবার্গও ব্যাতিক্রম নয়। এডিনবার্গ এর ‘‌সাবাশ’‌ কমিটির পুজোতে এবছর সমস্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে অনলাইনের মাধ্যমে। এতো বছরের জীবন্ত স্মৃতিগুলোর ভিড়ে এবারের ‘‌সাবশ’‌ কমিটির দুর্গাপুজোটা বড়ই বেমানান। মনটা বারে বারে বলে, ‘‌এবারটা যাই হোক, আবার এসো মা’‌।


ছবি সৌজন্যে: এডিনবার্গ ‘‌সাবাশ’‌ দুর্গা পুজো কমিটি।

জনপ্রিয়

Back To Top