আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা নেই ট্রাম্পের!‌ বলছেন আমেরিকার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। আমেরিকার ২৪৪ বছরের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কখনই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়া যায়নি। মার্কিন গৃহযুদ্ধ বা ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ- কখনই পিছিয়ে যায়নি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। একমাত্র আইন ভেঙেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পেছোতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বলছেন ইতিহাসবিদ মাইকেল বেসচলস। ১৮১১ সালে দ্বিতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস লিখে যান, ‘‌মানুষের নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইনের সরকার হয়।’‌ তবে আইন যেমন আছে, তেমনি আইনের ফাঁক রয়েছে। কংগ্রেস সদস্যরা রাজি থাকলে একমাত্র তখনই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু এখানেও বজ্রআঁটুনি। হাউস অফ রেপ্রেসেন্টেটিভস ডেমোক্র‌্যাটদের দখলে। ওদিকে ডেমোক্র্যাটরা প্রথম থেকেই মেইল–ইন ভোটিং–এর পক্ষে কথা বলে এসেছেন। রিপাবলিকান পার্টি বা ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পেছোনোর ক্ষেত্রে ডেমোক্র‌্যাটদের রাজি করানো যে কার্যত অসম্ভব, তা ইতিমধ্যে দিনেরই আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়াও আইনে বলা আছে, নভেম্বরর ৩ তারিখেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পেছোতে হয়, তাহলে আইন প্রণেতাদের নতুন আইন পাশ করাতে হবে। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস অনুসারে, ‘‌২০তম সংশোধনী অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কার্যকাল ২০ জানুয়ারি, ২০২১–এর দুপুরে শেষ হবে। কোনও পরিস্থিতিতেই ওই সময়ে পরে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা যাবে না। এমনকী জরুরি অবস্থাতে সংবিধান সংশোধনী আনা যাবে না।’‌ সুতরাং, ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারির মধ্যে ট্রাম্প যদি ফের নির্বাচিত না হন, তবে তিনি অফিস ছাড়তে বাধ্য হবেন, এমনটাই নিয়ম। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে যদি হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সমর্থন পান তিনি, তা সত্ত্বেও বেশিদিন নির্বাচন পেছোতে পারবেন না, তার কারণ ২০ জানুয়ারির পর তাকে অফিস ছাড়তেই হবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও স্থগিত সম্ভব নয়, তার আরও একটা বড় কারন, প্রতি দু’‌বছর অন্তর হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ সদস্যরা নির্বাচিত হন। সে ক্ষেত্রে নতুন হাউজই গঠন করা হবে না। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পেছানো যে সম্ভব নয়, তা জলের মত পরিষ্কার। 
প্রসঙ্গত ‌হার নিশ্চিত জেনেই নির্বাচন পেছোনের ধান্দায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি ভোটিং পদ্ধতি নিয়েও টুইটারে বিতর্ক উসকে দিলেন তিনি। টুইটারে লিখলেন, ‘‌যদ্দিন না করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, বুথকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দান করার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে দেশে, তদ্দিন নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া যায় না?’‌ নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মার্কিন মুলুকে। সমীক্ষায় স্পষ্ট, ট্রাম্পের থেকে অনেকটাই এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বিডেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি আমেরিকায় যেভাবে ত্রাহি ত্রাহি রব ফেলেছে, তাতে ঠিক কী পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে বিগত কয়েক মাস ধরে বিতর্ক চলছে। সরাসরি বুথে গিয়ে ভোট দান নাকি মেইল–ইন ভোটিং! সেই বিতর্কই টুইটে উসকে দিলেন ট্রাম্প। বললেন, ‘‌মেইল–ইন ভোটিং পদ্ধতিতে ভোট হলে নির্বাচনে অনেক ত্রুটি থেকে যাবে। জালিয়াতিও হবে। এর চেয়ে অ্যাবসেন্টি ভোটিং পদ্ধতি অনেক ভাল।’‌ এই মেইল–ইন ভোটিং আসলে কী? মার্কিন মুলুকেও অনেক ধন্দ রয়েছে এই নিয়ম ঘিরে। আমেরিকার বহু স্টেটেই এই নিয়ম প্রচলিত কিন্তু নিয়মে অনেক হেরফের। মোদ্দাকথা, নির্বাচনের দিন কোনও ভোটার সশরীরে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত না থাকলেও তিনি ভোট দান করতে পারবেন এই পদ্ধতিতে। নির্বাচনের আগেই তিনি ব্যালট পেপার চেয়ে নিতে পারেন এবং তাতে নিজের পছন্দমত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে মেইল মারফত সেই ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দিতে পারেন। কেন উপস্থিত থাকতে পারছেন না, অনেক ক্ষেত্রে কারণ দর্শাতে হয়, আবার অনেকক্ষেত্রে হয় না। কিন্তু কেন এই পদ্ধতির বিরোধিতা করছেন ট্রাম্প, তা অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। কারণ ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, আমেরিকায় যে পদ্ধতিতেই ভোট হোক না কেন, নির্বাচনে জালিয়াতির ঘটনা খুব কম ক্ষেত্রেই ঘটে। উল্টে করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক–শারীরিক দূরত্ব শিকেয় তুলে ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার পরামর্শই বা কেন দিচ্ছেন, তাও স্পষ্ট নয়।

জনপ্রিয়

Back To Top