আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সাধে কী আর বলে, মানুষের চেয়ে হিংস্র জীব পৃথিবীতে নেই। ডেনমার্কের এক মহিলা নিজের ছেলের শরীর থেকে গত পাঁচ বছর ধরে রক্ত টেনে নিয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে পুলিস জানিয়েছে, ছেলের যখন ১১ মাস বয়স ছিল তখন থেকে সিরিঞ্জে করে তার শরীর থেকে রক্ত নিয়ে প্যাকেটবন্দি করত পেশায় নার্স, ৩৬ বছরের ওই মহিলা। গড়ে প্রতি সপ্তাহে একবার করে এভাবে রক্ত টানত সে। কিন্তু কী কারণে এই কাজ করত তা কিছুতেই স্বীকার করেনি ওই নার্স। এভাবে গত পাঁচ বছর ধরে মোট অর্ধেক লিটার রক্ত টেনেছিল সে।
সাত বছরের ওই বালক এখন তার বাবার সঙ্গে থাকে। জন্মের পর থেকেই পেটের গোলমাল ছিল তার। কিন্তু রক্তাল্পতার জন্য গত পাঁচ বছরে তাকে ১১০বার রক্ত দিতে হয়। তারপরও রক্তাল্পতা না কমায় মায়ের উপর সন্দেহ হয় চিকিৎসকদের। বিষয়টি পুলিসকে বললে তদন্তে নেমে ২০১৭–র সেপ্টেম্বরে এক প্যাকেট রক্ত সহ মহিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। জেরায় সে স্বীকার করে ওই রক্ত সে তার ছেলের শরীর থেকে টেনেছে। বৃহস্পতিবার ড্যানিশ আদালত মহিলাকে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদন্ড দিয়েছে। তার নার্সিং লাইসেন্সও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। রায় শোনার পরও নির্বিকার মহিলা বলে, সে জেনেশুনে কিছু করেনি। কেন, কখন সে ওই কাজ করেছিল তাও তার মনে নেই। ওই রক্ত সে শৌচাগারে এবং সিরিঞ্জগুলি ডাস্টবিনে ফেলে দিত। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ওই মহিলা এক বিশেষ ধরনের রোগের শিকার, যাতে এক মা কল্পনা করে তার সন্তান অসুস্থ এবং নিজে থেকেই তার চিকিৎসা করতে চান। যদিও মহিলার শারীরিক অবস্থা জেলে যাওয়ার উপযুক্ত বলেই আদালতে জানিয়েছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।      
  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top