আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মহামারী এবং তার জেরে লকডাউন, বেকারত্বের উদ্বেগ ছিল। এবার তার সঙ্গে মার্কিনীদের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে গত সোমবার মিনিয়াপোলিসে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক শভিনের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যা। আর বর্ণবিদ্বেষের সেই ক্ষোভ ক্রমেই জনরোষে পরিণত হচ্ছে আমেরিকায়। আর শুধু কৃষ্ণাঙ্গরা নয়, শ্বেতাঙ্গরাও তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।
শনিবারও রাতভর অগ্নিগর্ভ ছিল বিক্ষোভের উৎসস্থল মিনিয়াপোলিস। চলে অবাধে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুঠপাট। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে রায়ট পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটায় এবং স্টান গ্রেনেড ছোড়ে। শুধু মিনিয়াপোলিসই নয়, সিয়াটেল থেকে নিউ ইয়র্কে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী রাতভর রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। জর্জ হত্যায় আরও আরও কড়া অভিযোগ এবং আরও গ্রেপ্তারির দাবি জানানো হয়। লস এঞ্জেলেসে বিক্ষোভকারীদের হঠাতে রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। শিকাগো, নিউ ইয়র্কে পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদীদের খণ্ডযুদ্ধ হলে বিক্ষোভকারীদের হঠাতে পেপার স্প্রে ছোড়ে পুলিশ। ফিলাডেলফিয়ায় প্রায় সব দোকান এবং বাড়ির কাচ ভেঙে ফেলেছে বিক্ষোভকারীরা। অ্যাটলান্টা, ডেনভার সহ প্রায় ২৪টি শহরে বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় নামানো হয় জাতীয় রক্ষী বাহিনী এবং সেনা। বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকতে নির্দেশ দেয় প্রশাসন। লস এঞ্জেলেস, শিকাগো সহ দেশের সব বড় শহরগুলিতে জারি হয়েছে কার্ফু।
উল্টোদিকে, অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির জন্য চরম বামপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী অ্যান্টিফাকে দুষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘‌আমরা কখনও ছোট একদল অপরাধীদের আমাদের শহর বরবাদ করতে দেব না। আমার প্রশাসন জন হিংসা রুখবে এবং আমরা এটা ঠান্ডা করে দেব।’‌ ডেমোক্র‌্যাট দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন বিক্ষোভের সমালোচনা করলেও বলেছেন প্রত্যেক মার্কিন নাগরিকেরই প্রতিবাদের অধিকার আছে।   
ছবি:‌ এএনআই   ‌

জনপ্রিয়

Back To Top