আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ফের ভারতে আর্থিক বৃদ্ধিতে কাঁচি চালাল আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার। চলতি অর্থবর্ষে দেশের অর্থনীতি ৪.‌৫% সঙ্কুচিত হবে, বুধবার জানাল আইএমএফ। এর আগে যা যা পূর্বাভাষ দিয়েছিল আইএমএফ, তার তুলনায় এবারের পূর্বাভাষ সবচেয়ে খারাপ। করোনা সংক্রমণের জেরে বিশ্বজুড়ে মন্দা ও দেশে লকডাউনের কারণে ভারতের অর্থনীতি গলা জলে ডুবে। চাঙ্গা করতে প্রায় ২১ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ দিয়েছে কেন্দ্র। জুন মাসের শুরু থেকেই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলি খুলে দিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চেয়েছে। কেন্দ্র বাড়ে বাড়েই দাবি করছে, অর্থনীতির পালে হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। জোগান–চাহিদা বাড়ছে। যদিও কেন্দ্রের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন বাজার অর্থনীতিবিদদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, কল–কারখানা খুলে যাওয়ায় পণ্যের জোগান বাড়লেও বাড়েনি চাহিদা। কারণ মানুষের হাতে নগদ অর্থ নেই। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে অনেক বেশি সময় লেগে যাবে। এই বক্তব্যেই সায় দিয়ে আইএমএফ জানায়, এপ্রিলে যা ভাবা হয়েছিল, করোনার জেরে তার চেয়েও বেশি ধাক্কা খেয়েছে ভারতের অর্থনীতি। আগামী বছর বৃদ্ধি যত শতাংশ হারে বাড়বে বলে ধরা হয়েছিল, তার চেয়ে কম হবে। আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ বলেন, এপ্রিলে ভাবা হয়েছিল, ২০২১–২২ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতি ৭.‌৪% হারে বাড়বে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ওই অর্থবর্ষে আর্থিক বৃদ্ধি মাত্র ৬% হারে বাড়তে পারে। হোটেল, বিমান, পর্যটনের মতো শিল্প চাহিদার অভাবে বিশেষভাবে মার খেয়েছে। জোগান বাড়াতে পদক্ষেপ করলেও চাহিদা বাড়াতে হাত খুলে টাকা ঢালেনি কেন্দ্র। তাতেই ভয়ঙ্কর বিপত্তি তৈরি হয়েছে। ঠিক এই কারণেই চলতি বছরে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি ছেঁটে মূল্যায়ন সংস্থা ইন্ডিয়া রেটিংস জানিয়েছে, এবছর দেশের অর্থনীতি ৫.‌৩% সঙ্কুচিত হবে। পাশাপাশি মার্কিন মুলুকের অর্থনীতি ৮% হারে সঙ্কুচিত হবে চলতি বছরে, জানায় আইএমএফ। 

জনপ্রিয়

Back To Top