আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাসপাতালের ভিতরে বেড রাখার জায়গা নেই। অক্সিজেন দেওয়ার অবস্থা নেই। নার্স আর চিকিৎসকের নাজেহাল অবস্থা। তবু তো চিকিৎসা চালাতেই হবে। হাসপাতালের বাইরের বাগানে, রাস্তার পাশে সারি সারি বেড সাজিয়ে ঠাঁই দেওয়া হল রোগীদের। তার ওপরে ঠাণ্ডা হাওয়ায় যন্ত্রণা যেন আরও বেড়ে যাচ্ছে।
মানবজাতিকে এদিনটি দেখতে হবে, ভাবতেই পারেনি কেউ। চীনকে দেখে শিখল না ইটালি। আর আজ শ’‌য়ে শ’‌য়ে সেনা নামিয়ে মৃতদেহ সরাতে হচ্ছে সেদেশে। মৃত্যুমিছিল লেগে গিয়েছে যেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৪৯ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন।

আর এই একদিনেই নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ৭৪৩ জন। কীভাবে সম্ভব সব রোগীকে জায়গা দেওয়া?‌ তাও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। নিজেদের প্রাণের কথা চিন্তা না করে বাইরের দেশ থেকেও চিকিৎসকেরা ইটালি পৌঁছলেন সেদেশের মানুষকে বাঁচিয়ে তুলতে। মৃত্যুমিছিলে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে। রবার্তো কোসেন্টিনি, ইটালির এক হাসপাতালের একজন কর্মী। তিনি জানালেন, ‘‌যাঁরা একটু সুস্থ হয়ে উঠছেন, তাঁদেরকে আর একটু সময় দেওয়ার আগেই নতুন রোগীরা চলে আসছেন।’ আরেকজন কর্মী জানালেন, ‘‌লকডাউন হওয়া একটা শহরে শুধু অ্যাম্বুলেন্সের আওয়াজ।

ভাল লাগে না।’ শুধু তাই না, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এখনও‌‌ পর্যন্ত ২,৬২৯ জন স্বাস্থ্যকর্মীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ তো মাত্র হিসেব। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কার্টাবেল্লোটার মতে, এই সংখ্যআ আরও অনেক বেশি। সবার এখনও পরীক্ষাই করা হয়নি। এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার উপযুক্ত হাতিয়ার নেই আমাদের দেশে। এছাড়া মেডিক্যাল সামগ্রীর অভাব দেখা দিচ্ছে ধীরে ধীরে। মাস্কের অভাব দেখা দিয়েছে বহুদিন ধরে। সমস্যার বিষয়, ইটালি নিজে মাস্ক তৈরি করে না। যেই দেশগুলি থেকে রপ্তানি করত, সেগুলি এখন লকডাউনে চলে গিয়েছে। অবস্থা বেশ শোচনীয়। সবাইকে বাড়ি থাকার আবেদন করে যাচ্ছে সরকার ও চিকিৎসকেরা। হোম কোয়ারেইন্টিনই ইটালিকে বাঁচাতে পারে কিনা দেখা যাক।

জনপ্রিয়

Back To Top