আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ শ্বাসকষ্ট, সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া— এতদিন এসবই ছিল কোভিড–১৯–এর লক্ষণ। কিন্তু দিল যতই এগোচ্ছে রোগের লক্ষণ কিন্তু পাল্টে যাচ্ছে। এখন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পেটের অসুখ, বমি হলেও সাবধান হতে হবে। কারণ সেগুলোও কোভিডের উপসর্গ হতে পারে। 
তবে চিন্তা বাড়িয়ে আরও একটি তথ্য দিলেন গবেষকরা। জানালেন, শুধু শ্বাসযন্ত্র নয়, করোনা প্রভাব ফেলতে পারে মস্তিষ্কেও। স্নায়ুতন্ত্রকে অসাড় করে ফেলতে পারে। বা স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। তার জেরে সাময়িক বা স্থায়ী উদ্দীপনা, প্রলাপ বকার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। 
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের এক দল গবেষক ৪৩ জন করোনা রোগীর বিষয় এখানে তুলে ধরেছেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এই ৪৩ জনের মধ্যে কারও মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। কারও স্ট্রোক হয়েছে, কারও বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, মহামারির প্রভাবে অনেক সময়ই মানুষের স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতিহাসেও এই উদাহরণ রয়েছে।
গবেষক মাইকেল জান্ডি জানালেন, ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু দাপিয়ে বেড়ায়। তার পর ১৯২০–৩০ নাগাদ এনসেফেলাইটিস লেথারজিকা মহামারির আকার নেয়। এতে আক্রান্ত হওয়ার পরেও অনেকেরই মস্তিষ্কের বিকার ঘটেছে। করোনার ক্ষেত্রেও সে রকমই হচ্ছে। ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগী দ্রুত অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমেলিটিসের (আডেম) শিকার হচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহেই দু’‌তিনজন আডেম আক্রান্তের খোঁজ মিলছে। ৫৫ বছরের রোগীর কথা তুলে ধরেছেন গবেষকরা। মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ এই রোগী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর অন্যরকম ব্যবহার করতে শুরু করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি দেওয়ালে নানা জন্তুর ছায়া দেখছিলেন। দ্রুত অ্যান্টি সাইকোটিক মেডিকেশান শুরু হওয়ায় ওই রোগীর উন্নতি হয়।
কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির স্নায়ুবিজ্ঞানী আদ্রিয়ান আওয়েন জানালেন, ‘‌গোটা দুনিয়ায় এখন লাখ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এক বছর পর যদি দেখা যায় করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা এক কোটি মানুষের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাহলে বহু মানুষ কাজ করার ক্ষমতা হারাবে। সমাজের জীবনযাপনই বদলে যাবে।’‌ আশঙ্কা, এতে অর্থনীতি আরও বেশি ধাক্কা খাবে। 

জনপ্রিয়

Back To Top