আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌  ইস্টার রবিবারের সকালে রক্তে ভাসল শ্রীলঙ্কা। সকাল ৮.‌৪৫ মিনিট থেকে দুপুর পর্যন্ত পরপর মোট আটটি বিস্ফোরণ হয় দ্বীপরাষ্ট্রের রাজধানী কলম্বো এবং সংলগ্ন অঞ্চলের গির্জা এবং হোটেলে। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৫ জন। মৃতদের মধ্যে ৩৫ জন বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৪ জন ভারতীয়। জখম কমপক্ষে ৪০০ জন। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।ইতিমধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
ইস্টারের সকালে গির্জাগুলিতে প্রার্থনার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানরা। সকাল ৮.‌৪৫ মিনিট নাগাদ কলম্বোর সেন্ট অ্যান্টনিস গির্জায় প্রথম বিস্ফোরণ হয়।

আতঙ্কিত মানুষজনের আর্তনাদ এবং পুলিসের হতচকিত অবস্থার মধ্যেই পরপর বিস্ফোরণ হয় কলম্বোর উত্তরাংশে নেগোম্বো শহরতলির কাটুওয়াপিটিয়ায় সেন্ট সেবাস্টিন গির্জা, বাট্টিকালোয়ার গির্জা, সিনামোন গ্র‌্যান্ড হোটেল, শাঙ্গরিলা হোটেল এবং কিংসবারি হোটেলে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল সেন্ট সেবাস্টিন গির্জার ছাদ সম্পূর্ণ উড়ে যায়। এরপর বেলার দিকে আরও দুটি বিস্ফোরণ হয়। সপ্তম বিস্ফোরণটিও একটি হোটেলে হয়েছে। বিস্ফোরকের ধরন এখনও জানা যায়নি। কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী হামলার দায়ও স্বীকার করেনি। শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেশে রাতের সময়ে কারফিউ–র নির্দেশ দিয়েছেন। দেশে সব ধরনের সোশ্যাল মিডিয়ার উপরও সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।


বিস্ফোরণের নিন্দা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, তিনি শ্রীলঙ্কার হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ভারত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। প্রবাসী ভারতীয়দের কোনওরকম সাহায্যের জন্য হেল্পলাইন নম্বর খোলা হয়েছে। ইস্টারের সকালে এই জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করে, শ্রীলঙ্কা সরকারের পাশে থাকার এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একজোটে লড়ার কথা জানিয়েছেন রামনাথ কোবিন্দ, নরেন্দ্র মোদি, ইমরান খান, টেরেসা মে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, শশী থারুর। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপলা সিরিসেনা এই সঙ্কটের দিনে সবাইকে শান্ত থাকতে আবেদন করে নিহতদে পরিবার এবং আহতদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।       ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top