আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পূর্ণ না করেই হাজার হাজার নাগরিকের শরীরে করোনার সম্ভাব্য ভ্যাকসিন প্রয়োগ করছে চীন সরকার। গত জুলাই মাস থেকেই চলছে এই প্রক্রিয়া। মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট প্রকাশ হতেই গোটা বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য। ট্রায়ালের আগে সাধারণ মানুষের শরীরে সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ নিয়ে আগেই সতর্ক বার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন বাজারে নিয়ে আসার আগে দেখে নেওয়া জরুরি, ভ্যাকসিনের ডোজে মানুষের শরীরে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে কিনা!‌ বা ওই ভ্যাকসিন সত্যিই মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলছে কিনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বারবার সতর্ক করে বলেছে, ভ্যাকসিন তৈরিতে যেন তাড়াহুড়ো না করা হয়। কিন্তু হু–কে জানিয়েই নাকি জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে দেশে, খোদ জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের এক আধিকারিক একথা জানাচ্ছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন–কে। 
ভ্যাকসিনের ডোজ নিয়েছেন চীনের জনপ্রিয় লেখক কান চাই। বলছেন, ‘প্রথম ডোজে বিশেষ কোনও অনুভূতি হয়নি। তবে দ্বিতীয় ডোজে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গাড়ি চালাতে চালাতে আমার মাথা ঘুরেছে বেশ কয়েকবার। তবে শান্ত হয়ে খানিকক্ষণ বসার পর ভাল বোধ করি।’‌ শুরুতে সরকারি আধিকারিক এবং গবেষকদের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে ওই ভ্যাকসিন। তারপর ধীরে ধীরে সাধারণ মানু্ষের ওপর প্রয়োগ শুরু হয়। চীনের এক স্বাস্থ্যকর্মী বলছেন, ‘‌যে কোনও প্রকারে এই ভাইরাসকে আটকাতে চাইছে সরকার। সেজন্যেই ট্রায়ালের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগ শুরু হয়ে গেছে দেশে।’‌ চীনের ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ কোম্পানির এক আধিকারিক বলছেন, ট্রায়াল প্রক্রিয়ার জন্য এখনও পর্যন্ত ৪০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর নাম নথিভুক্ত করেছে সিনোফার্ম। তার বাইরেও এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে।’‌ ওষুধপ্রস্তুতকারী সংস্থা সিনোভ্যাকও জানিয়েছে, কোম্পানির কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে বেজিং শহরে দশ হাজার ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে তারা। 
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের আধিকারিক জেন জংওয়েই বলছেন, সুরক্ষা বিধি মেনেই জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হচ্ছে। মূলত সরকারি আধিকারিক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদেরই এই ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে, কারণে তাঁরা রাত–দিন বাইরে থেকে কাজ করেন। কাজের সূত্রে বিদেশে যেতে হয়। তাঁরা যাতে ফের দেশে ফিরে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে, সেজন্যই এটা করা হচ্ছে। এছাড়াও সংক্রমণের নতুন ঢেউ যে কোনও মুহূর্তে দেশে শুরু হতে পারে, সেটাও আটকানো জরুরি।’ তবে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োএথিক্স–এর অধ্যাপক ডিয়েগো সিলভা বলছেন, ‘‌ট্রায়ালে উত্তীর্ণ না হয়েই জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন প্রয়োগের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এই মুহূর্তে চীনে আঞ্চলিক সংক্রমণ খুবই অল্প। নেই বললেই চলে। বাইরের দেশ থেকে কেউ এলেও তাঁকে সরকারি কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। এই প্রকল্পের কোনও প্রয়োজন ছিল না।’‌  

জনপ্রিয়

Back To Top