আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ হংকংয়ের ওপর বেজিংয়ের হাত ক্রমেই শক্ত হচ্ছে। প্রভাব বিস্তার বাড়ছে। এই নিয়ে হংকংয়ে অনেকদিন ধরেই ক্ষোভ বাড়ছিল। চলছিল প্রতিবাদও। এবার সেই প্রতিবাদের স্বাধীনতাই হয়তো খর্ব করে দিতে চায় চীন। তাই পাশ করাল বিতর্কিত নিরাপত্তা বিল। 
নতুন আইনে ঠিক কী আছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে মুখ খোলেনি বেজিং। তবে গত মাসেই বেজিং জানায়, এবার থেকে শহরে বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাত, চীন রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভাবনা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এতে বড়সড় ধাক্কা খায় হংকং। কারণ চীনের মূল ভূখণ্ডে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নিষিদ্ধ হলেও এই শহরে তা করা যায়। এখানকার কায়দা–কানুন মূল ভূখণ্ডের থেকে অনেকটাই আলাদা। তাতে এবার লাগাম পরাতে চায় কমিউনিস্ট পার্টি। বিচারবিভাগের স্বাধীনতাও খর্ব করতে চায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর জিনপিং সরকারের পাশ করানো আইনের বিরুদ্ধে হংকংয়ের প্রতিবাদে সিঁদুরে মেঘ দেখেছে বেজিং। তাতেই এই পদক্ষেপ।  
নতুন এই নিরাপত্তা আইনের খসড়া জিনপিং সরকার প্রকাশ করেনি। তাই এখন থেকে কী কী আইন মানতে হবে, তা নিয়ে হংকংবাসী অন্ধকারেই। সরকারের তরফে শুধু জানানো হয়েছে, শহরে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আইন জরুরি। 
প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত হংকং ছিল ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে। বিশেষ চুক্তি করে ব্রিটিশ সরকার তা চীন সরকারের হাতে ছেড়ে দেয়। শর্ত ছিল, আগামী ৫০ বছর হংকংবাসী নির্দিষ্ট কিছু স্বাধীনতা ভোগ করবে, যা চীনের মূল ভূখণ্ডের মানুষ পারে না। হংকংয়ের নাগরিকদের বাক্‌স্বাধীনতা, প্রতিবাদের স্বাধীনতা রয়েছে। তাঁদের বিচারব্যাবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন। 
এবার এই স্বাধীনতাই কেড়ে নিতে চাইছে বেজিং। ন্যাশনাল পিপ্‌লস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। হংকংয়ের বিধিনিয়মসম্বলিত বইতেও শিগগিরই জায়গা করে নেবে নতুন আইন। ব্রিটেনের হংকং হস্তান্তরের ২৩তম বার্ষিকীর একদিন আগেই বিলটি পাশ হয়েছে বলে খবর। 
নতুন আইন অনুযায়ী, চীন রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার চেষ্টা, সরকারের বিরোধিতা, সন্ত্রাসবাদ, বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাত অপরাধ বলে গণ্য হবে। হংকং শহরে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার জন্য নতুন দফতর তৈরি হবে। হংকংয়ের স্কুলে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে যা কিছু পড়ানো হবে, তাতেও নজরদারি চালাবে বেজিং। আইন মানা হচ্ছে কিনা, তা দেখার জন্য শহরে জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন বসানো হবে। এর মাথায় থাকবেন বেজিংয়ের নিযুক্ত উপদেষ্টা। হংকংয়ের মুখ্য একজিকিউটিভ এবার বিচারপতি নিয়োগ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলার শুনানিও করাতে পারবেন। এতে হংকংয়ের বিচারবিভাগীয় স্বাধীনতা যে খর্ব হবে, বলাই বাহুল্য। সর্বোপরি, কোনও বিষয়ে বেজিংয়ের আইনের সঙ্গে হংকংয়ের আইনের দ্বন্দ্ব তৈরি হলে বেজিংয়ের আইনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
নতুন এই নিরাপত্তা আইন নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষত ব্রিটেন। তারা জানিয়েছে, চীন এই আইন বলবৎ করলে ব্রিটেন অভিবাসন নীতি সংস্কার করবে। লাখ লাখ হংকংবাসীদের নাগরিকত্ব দিতে তৈরি। আমেরিকা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হংকংয়ের বিশেষ মর্যাদা, সুযোগ কেড়ে নেবে। চীন যদিও এসবে কান দেয়নি।   

জনপ্রিয়

Back To Top