সংবাদ সংস্থা, লন্ডন: কর্মফল ভুগতে হচ্ছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে তঁার সরকার। যার প্রভাব পড়েছে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায়। হাসপাতালে যথেষ্ট সংখ্যক ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী থাকছেন না। ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। উত্তর–পূর্ব লন্ডনের হুইপস্‌ ক্রস হাসপাতালে এরকমই এক নাগরিকের প্রচণ্ড ক্রোধের মুখে পড়তে হল প্রধানমন্ত্রীকে। ওমর সালেম নামে বিরোধী লেবার পার্টির ওই কর্মী–সমর্থকের সাত দিন বয়সি শিশুকন্যা গুরুতর অসুস্থ হয়ে আগের দিন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু ডাক্তারের অভাবে দীর্ঘ সময় তাকে বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকতে হয়েছে ওয়ার্ডে। পরদিনই হাসপাতালের করিডরে সপার্ষদ প্রধানমন্ত্রী জনসনকে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সালেম। মুখোমুখি দঁাড়িয়ে অভিযোগ করেন, ‘‌ব্রিটেনের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যে কিছুই করছে না আপনার সরকার। সেদিকে খেয়াল নেই আপনার। অথচ সংবাদ মাধ্যমে মুখ দেখানোর সুযোগ পেতেই দৌড়ে চলে এসেছেন!‌’‌ 
দৃশ্যতই বিব্রত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অস্বীকার করার চেষ্টা করেন যে, প্রচার পাওয়ার জন্যে তিনি হাসপাতালে আসেননি। খেঁাজ নিতেই এসেছিলেন। তাতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওমর সালেম চারপাশে ভিড় করে থাকা আলোকচিত্রী এবং টিভি ক্যামেরার দিকে দেখিয়ে বলেন, ‘‌তা হলে এগুলো কী?‌ এরা কারা?‌’‌ এক ক্রুদ্ধ পিতার সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই মিনিট দুয়েকের সঙ্ঘাতের ভিডিও এর পরই দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। যার পর বরিস জনসন টুইট করেন— আমি বিব্রত নই, লজ্জিতও নই। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার যে দায়িত্ব, কর্তব্য, মানুষের ক্ষোভ সামাল দেওয়াও তার মধ্যেই পড়ে। আমি বরং খুশি যে, লোকে সরাসরি এসে আমায় বলছেন। আমি ওঁদের কথা শুনব। ওঁরা যে সব সময় আমার সঙ্গে সহমত হবেন, তার কোনও মানে নেই।’‌
প্রধানমন্ত্রী জনসন এর আগেও জনরোষের লক্ষ্য হয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, অর্থাৎ ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের এক বড় অংশ, বিশেষত নবীন প্রজন্ম অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। ইইউ ছেড়ে যাওয়ার দরুন ব্রিটেনের আর্থিক ক্ষতি যাতে না হয়, সেটা এখনও নিশ্চিত করতে পারছে না রক্ষণশীল টোরি দলের সরকার। আগের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে–কে যে কারণে ইস্তফা দিতে হল। এখন রীতিমতো চাপে রয়েছেন জনসন। দু’‌সপ্তাহ আগে ইয়র্কশায়ার সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে ভিড় থেকে একজন তঁাকে চেঁচিয়ে বলেন, আপনি এখানে ঘুরে না বেড়িয়ে ব্রাসেলসে (‌ইউ সদর দপ্তরে)‌ যান!‌ আর জনসন বলছেন, মাত্র ৫৭ দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। তঁাকে আরও সময় দেওয়া উচিত। ‌

হাসপাতালে বরিস জনসনকে ঘিরে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

জনপ্রিয়

Back To Top