সংবাদ সংস্থা, লন্ডন, ২৯ মে- ব্রিটেনে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর, ২০১৯ সালের ‘‌মিস ইংল্যান্ড’‌ ভাষা মুখার্জি যখন মডেলিংয়ের কাজ মুলতুবি রেখে পুরনো পেশা ডাক্তারিতে ফিরে যান, তখনই সারা বিশ্বের নজর কেড়েছিলেন। আপাতত ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য–পরিষেবার সৈনিক হয়ে হাসপাতালে নাইট শিফ্‌টের পাশাপাশি ভাষা তঁার শহর, তঁার রাজ্যের মানুষের কথা ভাবছেন। করোনা লকডাউনে উপার্জনহীন গরিব, নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য তহবিল গড়ার এক উদ্যোগে শরিক হয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় আমফান যে হতদরিদ্র মানুষদের সর্বস্বান্ত করেছে, তঁাদের পাশেও দঁাড়াতে চান ভাষা। ৩১ মে, রবিবার জুম ভিডিও অ্যাপের মাধ্যমে একটি অনুষ্ঠানে আমফান–‌দুর্গত পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের জন্য অর্থ সাহায্যের আবেদন জানাবেন তিনি। এর আগেও ফেসবুক এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিও–বার্তায় তিনি আর্জি জানিয়েছেন কলকাতার পথবাসীরা–‌সহ গোটা বাংলার গরিব থেকে গরিবতর মানুষ, বিশেষত শিশুদের জন্য সাহায্য দিতে। প্রথমে করোনা লকডাউন, পরে ঘূর্ণিঝড় আমফানের জোড়া ধাক্কায় যে–‌প্রান্তবাসী মানুষেরা আজ বিপর্যস্ত, তঁাদের জন্য কাজ করছে কলকাতার একটি বেসরকারি সেবা সংস্থা। ভাষা মুখার্জি সেই সংস্থার স্বেচ্ছা–‌শুভেচ্ছাদূত। তাদের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক স্তরে সংগৃহীত ত্রাণ–‌সাহায্য নিজের জন্মভূমির হাতে তিনি তুলে দেবেন। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক ই–মেইল সাক্ষাৎকারে ভাষা যা বলেছেন, তা বিশ্বের সমস্ত বাঙালির আশাবাদের প্রতিধ্বনি করেছে। ভাষা বলেছেন, ‘দেশ ভাগ থেকে মন্বন্তর, ‌বাংলা চিরকালই প্রতিকূলতার মুখে নিজের সহনক্ষমতা প্রমাণ করেছে। এবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। উদার, নিঃস্বার্থ হতে হবে। ধনীরাই কেবল সাহায্য করবেন তা নয়। ধনীরা মধ্যবিত্তকে সাহায্য করুন, মধ্যবিত্তরা নিম্নবিত্তকে। নিম্নবিত্তরাও সাধ্যমতো সাহায্য করুন হতদরিদ্রদের।’‌ সারা বিশ্বের বাঙালিদের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ত্রাণ তহবিলে অর্থ সাহায্য করার যে–আবেদন ছড়িয়েছে, সে–সম্পর্কে ভাষার বক্তব্য, অবশ্যই সাহায্য করা উচিত। বিন্দুতেই সিন্ধু হয়। এক কণা চালও ভাণ্ডার বাড়ায়। প্রতিটি ক্ষুদ্র সাহায্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসাবিদ্যার দুটি শাখায় স্নাতক ভাষা সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিজয়িনী হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মেই প্রচুর অফার পেয়েছেন মডেলিংয়ের। যে–‌কারণে মুলতুবি ছিল ডাক্তারির কাজ। কিন্তু ব্রিটেনে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর এক মুহূর্তও সময় নেননি নিজের সামাজিক দায়িত্ব পালনে। নিজের নামের প্রতি সুবিচার করে পঁাচটি ভাষায় কথা বলতে পারেন। তার একটি অবশ্যই বাংলা। ক্যালকাটা গার্লস স্কুলে পড়তে রাস্তার ফুচকা, আলুকাবলির স্বাদ এখনও তঁার জিভে লেগে আছে। আর মনের মধ্যে থেকে গেছে বাংলা।

জনপ্রিয়

Back To Top