সমীর দে, ঢাকা: বাংলাদেশের ক্যালেন্ডারে পয়লা বৈশাখ ছিল রবিবারই। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মেতে উঠল পুরো বাংলাদেশ। জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে স্বাগত জানাল নতুন শুভ সম্ভাবনাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাগোয়া রমনা বটমূলে শুরু হয় ছায়ানটের প্রভাতী অনুষ্ঠান, বাঙালির বর্ষবরণ। একটু বেলা হতেই শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। বাদ দেওয়া হয় পান্তা–ইলিশের আয়োজন। দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত–‌সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকলকে কাজ করে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামি লিগ এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা–‌কর্মীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ সবার জীবনকে সুন্দর এবং উদ্ভাসিত করে তুলবে। আমরা আমাদের সকল কর্মের মধ্যে দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ করে যাব। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ, যে–‌বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেখেছিলেন। আমি এটুকুই আশা করব যে, আমাদের যে উন্নয়নের যাত্রা শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। বিশ্ব দরবারে বাঙালি জাতি সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলবে। বিশ্বে বাংলাদেশ একটি উন্নত–‌সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।’‌
বাংলাদেশে ছায়ানট আর বাঙালির বর্ষবরণ এখন সমার্থক। প্রতি বছরের মতো এবারও রমনার বটমূলে শিল্পীদের ‘নব আনন্দে জাগো’‌ গানের মধ্যে দিয়েই যেন উদিত হল নতুন বছরের সূর্য। ১৪২৬–‌কে স্বাগত জানাল মানুষ। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতীক ‘পঙ্খীরাজ ঘোড়া’, যার মুখ মানুষের মতো। ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’— রূপকথার আশ্রয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতি অনন্ত সম্ভাবনার পথে চলার ডাক। এদিন সকালে চারুকলার সামনে থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শাহবাগ, শিশুপার্ক হয়ে চারুকলায় এসে শেষ হয়।
এদিকে ধর্ষিত, নিহত নুসরাতের স্মরণে ফেনির সোনাগাজিতে এ বছর পয়লা বৈশাখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়। ছিল না পান্তা–ইলিশের আয়োজন। নুসরাতের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top