আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ করোনা সঙ্কট এবং অর্থনৈতিক মন্দার জেরে খাদ্যাভাব, বেকারত্বে আগে থেকেই জর্জরিত ছিল লেবানন। এবার মরার ওপর খাঁড়ার ঘা–এর মতো এসে পড়ল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণ। গোটা শহর এখন ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে!‌ সরকারি অবহেলা, ‘‌অপদার্থতা’‌–র বিরুদ্ধে এবার রাস্তায় নামলেন সাধারণ মানুষ। ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে পুলিশের। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। বর্তমান সরকারে ভরসা নেই, দেশে ফরাসি শাসনের দাবি উঠছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ৫০ হাজার মানুষের সই সংগ্রহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বেইরুটে গিয়েছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ। শনিবার দেশজুড়ে সরকার বিরোধী প্রতিবাদের ডাক উঠেছে। 
সরকারি হিসেবে, বিস্ফোরণে ১৫৪ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ আহত। প্রায় তিন লাখ ঘরছাড়া। সব হারিয়ে বেইরুটের রাস্তায় রাস্তায় এখন মানুষের হাহাকার। এত বড় মাপের বিস্ফোরণ ঘটল কীভাবে?‌ কারা জড়িত?‌ জবাব চাইছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক সংস্থার হাতে তদন্তের ভার তুলে দেওয়ার দাবি উঠলেও তা চাইছে না সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘‌বিস্ফোরণের ঘটনায় বিদেশিশক্তির হাত থাকতে পারে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের খুঁজে বের করে সাজা দেওয়া হবেই।’
ইজরায়েল বিস্ফোরণের দিনই জানিয়ে দিয়েছে, এই ঘটনার পেছনে তাদের কোনও হাত নেই। ‌বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকারি অবহেলার জন্যেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। কিন্তু বন্দর এলাকার ওই গুদামঘরে এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কেন রাখা হয়েছিল? ২০১৪ সালে রাশিয়ার একটি মালবাহী জাহাজে ওই বিস্ফোরক পৌঁছোয় বেইরুটে। সেই থেকে বন্দর এলাকার ওই গুদামঘরে বিস্ফোরক রয়েছে বলে খবর মিলেছে। প্রেসিডেন্ট মিশেল ওউন বলেছেন, আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে কিংবা বোমাও ছোড়া হতে পারে!‌ তবে সরকারি আধিকারিকেরা এই সম্ভাবনাকে কার্যত উড়িয়েই দিতে চাইছেন!‌  
 

জনপ্রিয়

Back To Top