আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঝনঝন করে ভেঙে পড়ছে জানলার কাচ। তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে পড়ছে বারান্দা, বহুতলের ছাদ।‌ বাসিন্দারা ভেবেছিলেন ভূমিকম্প হয়েছে। ছুটে বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়। সব ঠিক আছে তো!‌
নাহ্‌। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। জোরালো বিস্ফোরণ। পর পর দু’‌টো। তাতেই কেঁপে উঠল বেইরুট। মঙ্গলবার বিকেলে বেইরুটে বিস্ফোরণটি ঘটে। তীব্রতা এতটাই ছিল, যে আশপাশের ঘরবাড়িতে ফাটল ধরে যায়। ঘটনায় মারা গেছেন ৭৮ জন। আহত চার হাজারের বেশি। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে।
নেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব জানিয়েছেন, বেইরুট বন্দরের একটি গুদামে ২,৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জমা ছিল। তার জেরেই দুর্ঘটনা। দিয়াবের কথায়, ‘‌এটা কিছুতেই মানা যায় না, যে ছ’‌ বছর ধরে একটি গুদামে ২,৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জমা রয়েছে। কোনও সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে আমরা চুপ থাকব না।’
‌লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি এমনিতেই বেশ উত্তেজনাপ্রবণ। করোনার থাবা তো আছেই। তাছাড়াও মন্দায় ধুঁকছে দেশের অর্থনীতি। তার ওপর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরির খুনের বিচারের রায় তিন দিন পর বেরোবে। মঙ্গলবারের বিস্ফোরণ তাই লেবাননবাসীকে সেই ২০০৫ সালের বিস্ফোরণের কথাই মনে করিয়ে দিল। এ রকমই এক আত্মঘাতী ট্রাক বিস্ফোরণে মারা যান হারিরি। 
লেবানন বেশিরভাগ প্রয়োদনীয় খাদ্যপণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করে। সেগুলো সবই জমা ছিল বেইরুটের বন্দরের কাছে গুদামগুলোতে। বিস্ফোরণে সব খাদ্যপণ্য পুড়ে ছাই। এখন দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে বলে চিন্তায় প্রশাসন। 
প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বুধবার মন্ত্রিসভার আপৎকালীন বৈঠক ডেকেছেন। তাঁর দাবি, দেশে অন্তত দু’‌ সপ্তাহের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা দরকার। বুধবার থেকে দেশে তিন দিনের জাতীয় শোক পালন করা হবে। প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ছ’‌ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার খরচের কথা ঘোষণা করেছেন। উদ্ধারকর্মীরা ঝাঁপিয়ে কাজে নেমে পড়েছে। সেই সঙ্গে চলছে তদন্তও। প্রশাসন জানিয়েছে, দোষীদের শাস্তি হবে।
ঠিক কী হয়েছিল?‌ স্থানীয় সময় সন্ধে ছ’‌টা নাগাদ বেইরুটের বন্দরে পর পর দু’‌টি বিকট বিসস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তীব্রতায় ভেঙে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়ি, নির্মাণ। এতটাই বিকট শব্দ হয় যে ২৪০ কিলোমিটার দূরে সাইপ্রাস দ্বীপেও তা শোনা গেছে। সেখানকার লোকজন ভেবেছিলেন ভূমিকম্প হয়েছে। ভগ্নস্তূপের নীচে এখনও আটক বহু মানুষ। রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কাচের টুকরো, লোহার রড। 
এমনিতেই করোনার কারণে হাসপাতালগুলো ভর্তি ছিল। মঙ্গলবারের পর হাসপাতালে বেড়ে চলেছে রোগীর সংখ্যা। তার মধ্যে বিস্ফোরণে ভেঙে পড়েছে বেশ কয়েকটি হাসপাতালও। বহু মানুষের ঘরবাড়ি মাটিতে মিশেছে। তাঁরা এখন খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা সত্যিই কষ্টকর। 

জনপ্রিয়

Back To Top