সমীর দে, ঢাকা: বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর হাসান ওরফে ফয়জুল ওরফে শফিকুর জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী বলে জানিয়েছে র‌্যাব। সে আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। সিলেট র‌্যাব–৯ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলি হায়দার আজাদ রবিবার এ কথা জানিয়েছেন।
জাফর ইকবাল বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদের ছোট ভাই। তিন ভাইয়ের মধ্যে হুমায়ুন আহমেদ সবার বড়। আর ছোট ভাই আহসান হাবিব। তিনিও বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখকদের একজন। জাফর ইকবাল ছোটদের জন্য সায়েন্স ফিকশন লেখেন। এই সায়েন্স ফিকশন খুবই জনপ্রিয়। এর আগেও জাফর ইকবালকে হুমকি দিয়েছে জঙ্গিরা। হুমায়ুন আহমেদ বেঁচে থাকার সময়।
কর্নেল আলি হায়দার আজাদ বলেন, ‘ফয়জুরের কাছ থেকে র‌্যাব বিভিন্ন ধরনের তথ্য পেয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল কাজ করে যাচ্ছে। র‌্যাব তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ ধরনের হামলা কেউ একা করতে পারে না। তার সঙ্গে আরও কেউ ছিল বলে আমরা ধারণা করছি। তবে ফয়জুর জানায়, সে একাই এই হামলা চালিয়েছে।’
এদিকে, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। মাথা, পিঠ ও হাতে জখম নিয়ে জনপ্রিয় এই লেখক বর্তমানে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের আইসিইউ–তে রয়েছেন। পুরো সুস্থ হতে তাঁর কয়েক দিন সময় লাগবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। রবিবার সিএমএইচ–এর চিকিৎসকেরা সাংবাদিকদের বলেন, অধ্যাপক ইকবালের শরীরে ৬টি আঘাত আছে। 
শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠান চলার সময় এক তরুণ ছুরি নিয়ে অধ্যাপক ইকবালের ওপর হামলা চালায়। তাঁকে প্রথমে সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। ডাঃ মুজিবুর রহমান জানান, তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় আছেন এবং পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ
জাফর ইকবালের স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসার সব কিছুর ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। পুলিসি নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, দু’‌বছর ধরে পুলিস ২৪ ঘণ্টা আমাদের সঙ্গে থাকছে। আমরা কোনওভাবেই পুলিস ও সরকারকে দায়ী করব না। পুলিসের করার কিছু ছিল না। 
র‌্যাব জানিয়েছে, ‘হামলাকারী ফয়জুর একসময় মাদ্রাসায় দাখিল পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। এরপর আর পড়েনি। বিভিন্ন সময়ে সে বিভিন্ন কাজ করেছে। ’ র‌্যাব জানায়, ফয়জুর সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার কালিয়াকাপন গ্রামের বাসিন্দা সদর উপজেলার টুকেরবাজের মাদ্রাসা শিক হাফিজ আতিকুর রহমানের ছেলে।
ফয়জুলের গ্রামের বাড়িতে তালা
হামলাকারী ফয়জুর রহমান ফয়জুলের গ্রামের বাড়ির প্রতিটি ঘর তালাবন্ধ। ঘটনার পরপরই ফয়জুলদের স্বজনরা বাড়িতে তালা মেরে পালিয়ে গেছে। রবিবার তার গ্রামের বাড়ি কলিয়ারকাপন গ্রামে ফয়জুলের বাড়ির আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয়রা তাকে ফয়জুল হাসান নামে চেনে।  সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। 
ফয়জুলের বাবা মওলানা আতিকুর রহমানের তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ফয়জুল তৃতীয়। প্রায় ১৫ বছর আগে তারা সিলেটে চলে যায়। সিলেটে আগে কাপড় ফেরি করত ফয়জুল। পরে সে একটা মোবাইল ফোনের দোকান করে।  
সারা দেশে বিক্ষোভ
জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভে মিছিল, প্রতিবাদ, সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে রবিবার সকাল থেকে।
 সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক–শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বিক্ষোেভ, মিছিলে ক্যাম্পাস রবিবার সকাল ১০টার পর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে।   সোমবার দু’‌ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতি।

জনপ্রিয়

Back To Top