সমীর দে, ঢাকা, ২০ জানুয়ারি- চট্টগ্রামে ১৯৮৮ সালে আওয়ামি লিগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় পুলিশের গুলিতে ২৪ জনকে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার চট্টগ্রাম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ইসমাইল হোসেন এই রায় দেন। একই দিনে ১০ জন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম। ঢাকার পল্টনে ২০০১ সালে কমিউনিস্ট পার্টি বাংলাদেশের (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলা করে ৫ জনকে হত্যার মামলায় এই রায়। 
১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে শেখ হাসিনার জনসভায় গুলি চালায় পুলিশ। প্রাণ হারান ২৪ জন নেতা–‌কর্মী। ‘‌চট্টগ্রাম গণহত্যা’‌ নামে পরিচিত এই ঘটনার চার বছর পর ১৯৯২ সালে আইনজীবী শহিদুল হুদা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদা–‌সহ ৪৬ জনকে দায়ী করে মামলা করেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা প্রত্যেকেই পুলিশকর্মী। তাঁরা হলেন জে সি মণ্ডল, প্রদীপ বড়ুয়া, মমতাজউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান ও শাহ আবদুল্লাহ। জে সি মণ্ডল পলাতক। প্রধান আসামি তৎকালীন কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদা মারা গেছেন।
২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি সিপিবি–‌র সমাবেশে বোমা হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছিল। ১৯ বছর পর ২০ জানুয়ারি তারিখেই তার রায় দিল আদালত। সিপিবি–‌কে ‘নিশ্চিহ্ন’ করতে জঙ্গিরা ওই হামলা চালিয়েছিল, পর্যবেক্ষণ বিচারকের। রায়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার জন্য হরকাতুল জিহাদের এই জঙ্গিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দশ আসামির মধ্যে মুফতি মইনউদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি ৬ জন পলাতক।

জনপ্রিয়

Back To Top